ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন পর্তুগালের কোচ জর্জে জেসুসের আইনজীবী লুইস মিগেল এনরিকে। রোনালদোর আচরণ ও ব্যক্তিগত রেকর্ডের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, নিজের কর্মকাণ্ডেই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জনগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট করছেন পর্তুগিজ তারকা। জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার ঘটনায় চলমান বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘ত্রিবুনা’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনরিকের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, রোনালদো নিজের আচরণ এবং নির্দিষ্ট কিছু পরিসংখ্যানের পেছনে অতিরিক্ত ছুটছেন। এতে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অর্জিত সাফল্যগুলোকে মানুষ যেভাবে মনে রাখে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় যা করতে পারেননি, রোনালদো নিজেই যেন সেই কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনরিকে আরও অভিযোগ করেন, রোনালদো ক্রমেই এমন মানুষদের দিয়ে ঘিরে যাচ্ছেন, যাঁরা কেবল তাঁর পছন্দের কথাগুলোই বলেন। অন্যদিকে, যাঁরা তাঁকে প্রয়োজনীয় সত্যটি জানাতে চান, তাঁদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন তিনি। এই প্রবণতা রোনালদোর ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘদিনের অর্জন সম্পর্কে মানুষের ধারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন আইনজীবী।
রোনালদোকে উদ্দেশ করে বক্তব্যের শেষ দিকে এনরিকে বলেন, ‘ঈশ্বর এবং স্বৈরাচারীদের পরিণতি এমনই হয়। দিন শেষে তাঁরা ওলিম্পাস পর্বতের চূড়ায় আয়নায় ঘেরা একাকিত্বে হারিয়ে যান।’ তাঁর এই মন্তব্যে ফুটবল অঙ্গনে রোনালদোকে ঘিরে চলমান বিতর্ক আরও আলোচনায় এসেছে।
শুধু রোনালদোর আচরণ নয়, পর্তুগিজ সংবাদপত্র ‘রেকর্ড’-এ নিয়মিত লেখালেখি বন্ধ করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন এনরিকে। তাঁর দাবি, পত্রিকাটির মালিক প্রতিষ্ঠান মিডিয়ালিভরেতে রোনালদোর উল্লেখযোগ্য মালিকানা রয়েছে। জেসুসের আইনজীবী হিসেবে রোনালদোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া তাঁর কাছে অনুচিত বলে মনে হয়েছে।
এনরিকে বলেন, আর্থিক স্বাধীনতা ছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সম্ভব নয়। ক্ষমতাবানদের সমালোচনা করে মত প্রকাশ করতে হলে তাঁদের কাছ থেকে আর্থিকভাবে স্বাধীন থাকা জরুরি। নিজের বক্তব্যের ওপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কিংবা চাপ থাকুক, তা চান না বলেও জানান তিনি।
রোনালদো ও জেসুসের বিরোধের সূত্রপাত পর্তুগালের নেশনস লিগের ম্যাচ ঘিরে। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচে রোনালদো পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন। রোনালদোর দাবি, কোচ তাঁকে দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ার্মআপ করালেও মাঠে নামাননি। খেলার সময় নিয়ে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন তিনি।
এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের কার্যক্রম শুরু করে এবং ১০ অক্টোবর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে রোনালদো নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও জানান।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন