বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা ভাজা মুরগির সঙ্গে কেচাপ খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। তবে টমেটোর বদলে পাকা কলা দিয়েও তৈরি করা যায় মজাদার কেচাপ। ফিলিপাইনে জনপ্রিয় এই সস মিষ্টি, টক ও ঝাল স্বাদের মিশ্রণে তৈরি। সহজ কিছু উপকরণ দিয়ে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন ভিন্ন স্বাদের এই কেচাপ।
কলার কেচাপ তৈরির উপকরণ

পাকা কলা চটকে নেওয়া ২টি
মাঝারি আকারের পেঁয়াজ কুচি ১টি
রসুন কুচি ৪ কোয়া
আদা কুচি সামান্য
সাদা ভিনেগার ২০০ মিলিলিটার
চিনি বা বাদামি চিনি স্বাদমতো
টমেটো পেস্ট দেড় টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
মরিচ বা গোলমরিচ স্বাদমতো
দারুচিনি গুঁড়া আধা চা-চামচ
হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ
তেল সামান্য
লবণ স্বাদমতো
পানি প্রয়োজনমতো
যেভাবে তৈরি করবেন কলার কেচাপ
ধাপ ১: মসলা ভেজে নিন
প্রথমে একটি কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করুন। এতে পেঁয়াজ, রসুন ও আদা কুচি দিয়ে হালকা ভেজে নিন। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে স্বাদ অনুযায়ী মরিচ বা গোলমরিচ মিশিয়ে দিন।
ধাপ ২: কলা ও অন্যান্য উপকরণ মেশান
এবার কড়াইয়ে চটকে রাখা পাকা কলা দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। এরপর চিনি, ভিনেগার, টমেটো পেস্ট, দারুচিনি গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া ও লবণ যোগ করুন। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
ধাপ ৩: মিশ্রণটি রান্না করুন
মাঝারি আঁচে মিশ্রণটি রান্না করতে থাকুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন, যাতে কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায়। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য পানি যোগ করতে পারেন। স্বাদ অনুযায়ী চিনি, ভিনেগার ও মসলার পরিমাণও ঠিক করে নিন।
ধাপ ৪: ব্লেন্ড করে মসৃণ করুন
মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মসৃণ সস তৈরি করুন। বেশি ঘন মনে হলে অল্প পানি দিয়ে পছন্দমতো ঘনত্ব ঠিক করে নিতে পারেন।
ধাপ ৫: পরিবেশন ও সংরক্ষণ
তৈরি হয়ে গেলে কলার কেচাপ ঠান্ডা করে পরিষ্কার কাচের পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে রাখুন। বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি কিংবা অন্যান্য পছন্দের খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
কিছু বিষয় মনে রাখবেন
কলার কেচাপের স্বাদ আরও ভালো করতে পাকা কলা ব্যবহার করুন। টমেটো পেস্ট না দিলেও এই সস তৈরি করা যায়। তবে এটি ব্যবহার করলে স্বাদ ও রঙে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টি, টক ও ঝালের পরিমাণ কমবেশি করতে পারেন।
ঘরে তৈরি এই সসে বাণিজ্যিক কেচাপের মতো দীর্ঘদিন ভালো থাকার নিশ্চয়তা নেই। তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন এবং অস্বাভাবিক গন্ধ, রং বা গঠন দেখা দিলে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন