চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে ৩৯টি পূজামণ্ডপে। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রং-তুলির শেষ আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ততই বাড়ছে আনন্দ ও উৎসাহ। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা। পূজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাগুলোতেও তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। সপ্তমীর তিথি ও পূজার সময়সূচিতে পঞ্জিকাভেদে পার্থক্য থাকতে পারে।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়ার ৩৯টি পূজামণ্ডপের মধ্যে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন কোয়া পোদ্দার বাড়ির সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ অন্যতম প্রাচীন। এ বছর সেখানে ১৪৬তম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখে এবারও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের আয়োজন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিমাশিল্পী কালু গোস্বামী ও বাবুল কারিগর জানান, প্রতিমা নির্মাণের মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন রঙের মাধ্যমে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে আকর্ষণীয় করে তোলার কাজ চলছে। উৎসবের আগে শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বেড়েছে। তবে প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তাঁদের মতে, দেবীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে পারলেই শিল্পী হিসেবে মানসিক তৃপ্তি পান।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ফণিভূষণ মজুমদার তাপু ও সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা জানান, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাশিল্পীরা রং-তুলির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে, যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করা যায়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনীন উৎসব নিশ্চিত করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন