চুইংগামের উপকারিতা যেমন রয়েছে, তেমনি অতিরিক্ত চিবালে দেখা দিতে পারে নানা স্বাস্থ্যসমস্যা। চিনি-মুক্ত চুইংগাম মুখে লালা উৎপাদন বাড়িয়ে দাঁতের সুরক্ষায় সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও এটি কার্যকর। তবে দীর্ঘ সময় চিবানো কিংবা চিনিযুক্ত চুইংগাম খাওয়ার অভ্যাস দাঁত ও চোয়ালের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এর ভালো-মন্দ দিক জেনে পরিমিতভাবে চুইংগাম চিবানো জরুরি।
চুইংগাম চিবালে মুখে লালা উৎপাদন বাড়ে। এই লালা মুখের ব্যাকটেরিয়ার তৈরি ক্ষতিকর অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করতে এবং দাঁতের এনামেল রক্ষায় সাহায্য করে। লালায় থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফেট দাঁতের খনিজ উপাদান পুনরুদ্ধারেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে খাবারের পর চিনি-মুক্ত চুইংগাম চিবালে মুখের অ্যাসিড কমাতে সুবিধা হতে পারে। তবে এটি ব্রাশ করার বিকল্প নয়।
চুইংগামের আরেকটি সুবিধা হলো মুখের দুর্গন্ধ সাময়িকভাবে কমানো। চিবানোর ফলে লালা বাড়ে, যা মুখের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় চুইংগাম চিবানোর সঙ্গে মনোযোগ ও মানসিক চাপের সাময়িক পরিবর্তনের সম্পর্কও পাওয়া গেছে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না। চুইংগাম হজমের চিকিৎসা নয় এবং এটি খেলেই হজমশক্তি বেড়ে যায়, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
অন্যদিকে, চিনিযুক্ত চুইংগাম নিয়মিত চিবালে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারণ মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনি ব্যবহার করে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। আবার দীর্ঘ সময় চুইংগাম চিবালে চোয়ালের সন্ধি ও পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে চোয়ালে ব্যথা, ক্লিকের মতো শব্দ, মাথাব্যথা কিংবা কানের আশপাশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সরবিটলযুক্ত চুইংগাম বেশি খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়াও হতে পারে।
যাঁদের চোয়ালের সন্ধির সমস্যা বা টিএমডি রয়েছে, রাতে দাঁত কিড়মিড় করেন কিংবা চিবানোর সময় ব্যথা অনুভব করেন, তাঁদের চুইংগাম এড়িয়ে চলা ভালো। সম্প্রতি দাঁতের ফিলিং, ইমপ্ল্যান্ট বা ব্রেস লাগানো হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট শিশু এবং যাঁদের গিলতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চুইংগাম গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
চুইংগাম চিবাতে চাইলে জাইলিটলযুক্ত চিনি-মুক্ত গাম বেছে নেওয়া ভালো। খাবারের পর অল্প সময়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট চিবানো যেতে পারে; তবে চোয়ালে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, চুইংগাম দাঁত পরিষ্কার করার সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। নিয়মিত ব্রাশ, ফ্লস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্তচিকিৎসকের পরামর্শই দাঁত সুস্থ রাখার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন