অনেকের সকাল শুরু হয় এক কাপ গরম কফি দিয়ে। কফি পান করলে ঘুমের ভাব কমে, মনোযোগ বাড়ে এবং কাজে আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সকালের নাশতার আগে কফি পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে, তা কি জানেন? বিশেষ করে যাঁদের পেটে অস্বস্তি বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিষয়টি জানা জরুরি। খালি পেটে কফি পান করলে সবার শরীরে একই প্রতিক্রিয়া হয় না। ব্যক্তিভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

কফি পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরির পরিমাণ বাড়তে পারে। এই অ্যাসিড খাবার হজমে সাহায্য করে। তবে খালি পেটে কফি পান করার পর কিছু মানুষের পেটে জ্বালাপোড়া, অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। যাঁদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে কফি পান করলেই পাকস্থলীর ক্ষতি হয়, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকেই কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই খালি পেটে কফি পান করতে পারেন।

খালি পেটে কফি পান করলে কিছু মানুষের বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যাও বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালির দিকে উঠে এসে বুকে জ্বালাপোড়া, মুখে টক স্বাদ কিংবা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। কফি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে কফি পান করার পর উপসর্গ বাড়ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা ভালো।

কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে ঘুমঘুম ভাব কমে এবং সতর্কতা বাড়ে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে কারও কারও অস্থিরতা, উদ্বেগ, হাত কাঁপা কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। খালি পেটে কফি পান করলে এসব প্রভাব সবার ক্ষেত্রে বেশি হবে, এমন নয়। ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা, কফির পরিমাণ এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।

কফি পান করার পর অনেকের দ্রুত মলত্যাগের তাগিদ তৈরি হয়। কারণ, কফি অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়াতে পারে এবং হজমের সঙ্গে জড়িত কিছু হরমোনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। আবার যাঁদের পরিপাকতন্ত্র সংবেদনশীল, তাঁদের পেটে মোচড়, অস্বস্তি কিংবা পাতলা পায়খানা হতে পারে। তবে কফি সবার হজমে একইভাবে কাজ করে না। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে কফি পান করা ভালো।

খালি পেটে কফি পান করলে পাকস্থলীতে আলসার হয় এমন ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। পাকস্থলীর আলসারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা। তবে আগে থেকে আলসার, বুকজ্বালা বা হজমের সমস্যা থাকলে কফি উপসর্গ বাড়াতে পারে। কফি পান করার পর অস্বস্তি হলে পরিমাণ কমানো, নাশতার পরে পান করা কিংবা কিছুদিন এড়িয়ে দেখে নেওয়া যেতে পারে। তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।