নিজেকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মনে করেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে না পারলেও নিজের এই অবস্থান বদলাবে না বলে জানিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তাঁর মতে, পরিসংখ্যানই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। তবে হাজার গোলের স্বপ্ন পূরণ হলে সেটি হবে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতির সময় পর্তুগাল জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসেন রোনালদো। এ ঘটনার পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ক্যারিয়ার, গোলের রেকর্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
গত সপ্তাহে পর্তুগালের কোচ জর্জে জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ঘটনা ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তোলেন রোনালদো। তাঁর দাবি, ভুল তথ্যের কারণে চলতি মাসের শুরুতে তাঁকে হঠাৎ জাতীয় দল ছাড়তে হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, তাঁর বর্তমান দুর্দান্ত ছন্দ এবং গোলের সংখ্যাকে মানুষ যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মিলিয়ে ১ হাজার ৩৩৭টি পেশাদার ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৮০। হাজার গোলের লক্ষ্য পূরণে এখনো বাকি ২০টি গোল।
তবে এই মাইলফলক অর্জনকেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না রোনালদো। তাঁর বক্তব্য, গোলসংখ্যা ৯২০, ৯২৫ কিংবা ৯৩০ হলেও ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। হাজার গোল করতে পারলে সেটি হবে অসাধারণ অর্জন এবং তাঁর ব্যক্তিগত লক্ষ্যগুলোর একটি।
সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলা রোনালদো সম্প্রতি অবসরের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন। আগামী জুনে চলতি ক্লাব মৌসুম শেষে তিনি ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নতুন সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।
এ প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, আগামীকাল কী হবে, তা তিনি জানেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি খেলার অনুপ্রেরণা না পান, তাহলে হয়তো আর খেলবেন না। অর্থাৎ, অবসরের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তাঁর নিজের অনুভূতি ও খেলার প্রতি আগ্রহের ওপর।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে রোনালদো স্পষ্ট করেছেন, এখনই জাতীয় দল থেকে অবসরের পরিকল্পনা নেই তাঁর। বিদায় নেওয়ার আগে অন্তত একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলার আশা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে না খেলানোর ঘটনায় কোচ জেসুসের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
ফুটবল ইতিহাসে পেলে, দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির মতো তারকাদের সঙ্গে রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। নিজের বক্তব্যে পেলে ও ম্যারাডোনার সমকক্ষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবিও তুলে ধরেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তবে হাজার গোলের লক্ষ্য পূরণ হবে কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন