লিটনের সেঞ্চুরি রেকর্ডে যোগ হলো নতুন অর্জন। আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত শতক তুলে নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেলেছেন লিটন দাস। অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করে ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

তৃতীয় দিন বিকালে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন লিটন। এরপর খুব বেশি সময় না যেতেই নাজমুল হোসেন শান্ত ও হাসান মাহমুদও সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে দলের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন লিটন।

মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নিতে থাকেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। শুরুতে অবশ্য ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছেন তিনি। কায়েস আহমেদের বলে দুবার ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে যান লিটন। পাওয়া দুটি জীবন কাজে লাগিয়ে এরপর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ব্যাটিং করতে থাকেন তিনি।

লিটনের ব্যাটিংয়ে ছিল ওয়ানডে মেজাজ। শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। প্রথম সেশনেই ফিফটি পূর্ণ করেন। এর আগে পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন লিটন। এই মাইলফলক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচিত ব্যাটারদের একটি বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি।

প্রথম সেশন শেষে সেঞ্চুরি থেকে ১৯ রান দূরে ছিলেন লিটন। দ্বিতীয় সেশনে সেই ১৯ রান তুলতে তিনি খেলেন মাত্র ১৯ বল। এরপরই পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। মাত্র ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইনিংস উপহার দেন তিনি।

এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে চলতি বছরে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট শতকের দেখা পান লিটন। এর আগে মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ব্যাট হাতে শতকের দেখা পেলেন এই বাংলাদেশি ব্যাটার।

লিটনের এই সেঞ্চুরি তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি বিশেষ রেকর্ডেও এগিয়ে দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির তালিকায় ছয়টি শতক নিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ নম্বরে ছিলেন লিটন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবারের সেঞ্চুরির পর তিনি আশরাফুলকে পেছনে ফেলে এককভাবে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছেন।

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় অবশ্য লিটনের সামনে এখনও কয়েকজন তারকা ব্যাটার রয়েছেন। মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি ১৪টি। দুই নম্বরে থাকা মমিনুল হকের সেঞ্চুরি ১৩টি। তামিম ইকবালের রয়েছে ১০টি সেঞ্চুরি। এরপর ৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকার চারে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরির পর লিটন দাসের টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। ফলে সাতটি শতক নিয়ে এখন তিনি নাজমুল হোসেন শান্তর পরের অবস্থানে রয়েছেন। সমসাময়িক ম্যাচ প্রতিবেদনে তার এই সেঞ্চুরির পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশের লিড বাড়ানোর কথাও উঠে এসেছে।

লিটনের জন্য এই ইনিংসটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সের কারণে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তিনি ৫৩ রান করেছিলেন। এর আগে টেস্টে টানা তিনটি ডাকের পর সেই ইনিংস দিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

এবার দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে শুধু দলের ইনিংসই টেনে নেননি, নিজের নামও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে আরও ওপরে তুলে নিয়েছেন লিটন। আশরাফুলের ছয় সেঞ্চুরির রেকর্ড পেছনে ফেলে সাতটি টেস্ট শতক নিয়ে এখন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় এককভাবে পাঁচ নম্বরে রয়েছেন তিনি।