দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ পরিবার এ কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নেওয়া এ প্রকল্পকে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে যোগ্য সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
উপকারভোগী নির্বাচনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের গ্রেডিং করা হবে, যাতে উপকারভোগী নির্বাচনে ভুলভ্রান্তি কমানো যায়।
মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরুর আগে প্রকল্পটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনের সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো যাচাই করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটির হার কোনো ক্ষেত্রেই ২ থেকে ৩ শতাংশ ছাড়ায়নি। চিহ্নিত সমস্যাগুলো সংশোধন করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ সময় তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো যোগ্য পরিবার যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে উপকারভোগী নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনের কাজে কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিকে রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে যোগ্যতার ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা যায়।
মন্ত্রী আরও জানান, কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সেগুলো মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউকে অন্যায়ভাবে সুবিধা দেওয়া কিংবা যোগ্য কাউকে বঞ্চিত করার সুযোগ রাখা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগ্য পরিবারগুলোকে যেন সুবিধা পেতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিস্তর সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিং ও নির্ধারিত মানদণ্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, পর্যায়ক্রমে দেশের সব যোগ্য হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে এ কর্মসূচির সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন