জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিন ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার। সিলেটের বিপক্ষে ঢাকা বিভাগের হয়ে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১৩১ রানে অপরাজিত থেকে সেঞ্চুরি করেছেন। অন্যদিকে, রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপ একাই গুঁড়িয়ে দিয়ে ৩৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন খুলনার শেখ মেহেদি হাসান। দিনের খেলায় মিম মোসাদ্দেকের ১৫৭ রানের ইনিংসও ছিল উল্লেখযোগ্য।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন নাঈম শেখ। বাঁহাতি এই ওপেনার ১৩১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। সেঞ্চুরি করার পর পায়ের পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তবে দ্বিতীয় দিন আবারও ব্যাট হাতে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।

ঢাকা বিভাগের ইনিংসে আরও অবদান রেখেছেন জিসান আলম ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্শাল আইয়ুব। জিসান খেলেছেন ৮১ রানের কার্যকর ইনিংস। অন্যদিকে, মার্শাল ৮০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। প্রথম দিন শেষে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৩৪৩ রান সংগ্রহ করেছে ঢাকা বিভাগ। বড় সংগ্রহের পথে দলটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

সিলেটের একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহের বিপক্ষে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন মিম মোসাদ্দেক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারসেরা ১৫৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে গড়েছেন ২০৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ইকবাল ১৪৭ বলে ৭৮ রান করেছেন।

ময়মনসিংহের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে অবদান রেখেছেন আবদুল্লাহ আল মামুনও। ৮৮ বলে ৬১ রান করেছেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ ওভারের খেলা শেষে মিমদের দল ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৭০ রান সংগ্রহ করেছে। প্রথম দিনেই বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করেছে দলটি।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শেখ মেহেদি হাসান। রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে ৩৮ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়েছেন খুলনার এই অভিজ্ঞ অফ স্পিনার। তাঁকে দারুণ সহায়তা করেছেন সফর আলি, যিনি শিকার করেছেন ৩ উইকেট।

মেহেদির ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় রাজশাহী। জবাবে প্রথম দিন শেষে খুলনা ১ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান তুলেছে। ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম ৫৫ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। ফলে প্রথম ইনিংসেই বড় লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে খুলনার সামনে।

কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি মইন খান। ১১৩ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৯৭ রান করেন তিনি। জাওয়াদ আবরারের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৬৩ রান। তাঁদের ব্যাটিংয়ে বরিশাল লড়াই করার মতো সংগ্রহ গড়ে।

তবে বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের বোলিংয়ে ২৮২ রানেই প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় বরিশাল। মুরাদ একাই নেন ৪ উইকেট। জবাবে কোনো উইকেট না হারিয়ে প্রথম দিন শেষে ৭২ রান সংগ্রহ করেছে চট্টগ্রাম। সব মিলিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম দিন ব্যাটারদের সেঞ্চুরি, বড় জুটি ও বোলারদের দাপটে জমে উঠেছে দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াই।