রামিসা হত্যা মামলার বিচার আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর মামলাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির মধ্যেও খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিচার কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি জানান, রামিসা হত্যা মামলার আসামি ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এবং মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমতে পারে। বিশেষ করে আলোচিত মামলাগুলোতে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত রায় নিশ্চিত করা গেলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রামিসা হত্যা মামলার বিচার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই দ্রুত বিচার শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এনসিপি যেভাবে ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখছে, বিএনপিও একইভাবে বিষয়টি দেখছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শুরু হওয়ার ঘোষণাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন