কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো শোকবার্তা কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার দোহার লুসাইল আমিরি প্রাসাদে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে এই শোকবার্তা তুলে দেওয়া হয়।
কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, শোকবার্তা হস্তান্তরের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে কাতারের আমির এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি শুধু নিজের দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে কাতার অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিক্ষা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, যা বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্পিকারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশেষ দূত হুমায়ুন কবির এবং কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হজরত আলী খান উপস্থিত ছিলেন। শোকবার্তা হস্তান্তরের পর স্পিকার কাতারের শুরা কাউন্সিলের স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ সরকার কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে ১৫ জুলাই রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই নির্দেশনা বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনেও কার্যকর করা হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাতারের জনগণের শোকের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।
এর আগে শোক ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংক্ষিপ্ত সরকারি সফরে দোহায় পৌঁছান। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসও পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর শুধু শোক প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশ ও কাতারের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন