বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর বিতর্কিত লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের প্রধান কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয় হামজাকে। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়াইল্ডার বলেছেন, ওই পরিস্থিতিতে হামজার পক্ষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংস্পর্শ এড়ানোর সুযোগ কোথায় ছিল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পোর্টসমাউথের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হয়। প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে জাক সোয়ানসনের গোলে এগিয়ে যায় পোর্টসমাউথ। এর কিছুক্ষণ পরই বড় ধাক্কা খায় শেফিল্ড ইউনাইটেড। ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাকে। ফলে ম্যাচের বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় সফরকারীদের।

হামজা প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন ম্যাচের ৩৫ মিনিটে। পোর্টসমাউথের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁকে সতর্ক করেন রেফারি। এরপর ৪৪ মিনিটে কাভুমা-ম্যাককুইন বলটি হামজার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি এবং হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক।

দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে শেফিল্ড ইউনাইটেড। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে আদ্রিয়ান সেগেচিচের গোলে ব্যবধান ২-০ করে পোর্টসমাউথ। তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি শেফিল্ড। ৫৯ মিনিটে জাফেট টাঙ্গাঙ্গার গোলে ব্যবধান কমায় তারা। এরপর ৬৭ মিনিটে টম ক্যাননের গোলে সমতায় ফেরে সফরকারীরা। দুই গোলের ঘাটতি পূরণ করে পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে।

কিন্তু ম্যাচের শেষদিকে সেই আশা ভেঙে দেন পোর্টসমাউথের এবু অ্যাডামস। ৮৯ মিনিটে তাঁর গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি শেফিল্ড ইউনাইটেড। ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পরও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। হামজার লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত এবং শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি না পাওয়ার ঘটনা তাই ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

ম্যাচ শেষে হামজার লাল কার্ড নিয়ে নিজের অসন্তোষ স্পষ্ট করেন কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তাঁর দাবি, রেফারি প্রথমে হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাঁকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেন। ওয়াইল্ডার বলেন, ‘হামজা আর কোথায় যাবে? সত্যি বলতে, হামজার যাওয়ার জায়গাটা কোথায় ছিল, আমি বুঝতেই পারছি না।’

রেফারির সমালোচনা করতে গিয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানান শেফিল্ড কোচ। তাঁর মতে, মাঠে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে খেলোয়াড়ের পক্ষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংস্পর্শ এড়ানো কঠিন। তবে এ বিষয়ে সব কথা প্রকাশ্যে বলতে পারছেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। ওয়াইল্ডারের এই বক্তব্যে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু হামজার লাল কার্ড নয়, ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি না পাওয়ার ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়কে পেনাল্টি এলাকার ভেতরে জার্সি ধরে টেনে ফেলা হয়েছিল। এতে খেলোয়াড়টির জার্সি প্রায় শরীর থেকে খুলে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। ওয়াইল্ডারের মতে, ম্যাচে একাধিক সিদ্ধান্ত তাঁর দলকে হতাশ করেছে।