চ্যাম্পিয়নস লিগে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গড়া রেকর্ডে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন আর্লিং হলান্ড, কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামাল। তাঁদের মধ্যে হলান্ড ইতিমধ্যে দ্রুততম সময়ে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, এমবাপে পৌঁছেছেন ৭২ গোলে, আর তরুণ ইয়ামাল গড়ছেন নিজের নতুন পরিচয়। বয়স, গোল করার দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা তাঁদের ভবিষ্যতে আরও বড় রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন হলান্ড। যদিও ম্যাচটিতে ৪-২ গোলে হেরে যায় সিটি, ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। মাত্র ৬০ ম্যাচে ৬০ গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম সময়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে ৬০ গোল করে মেসিকেও পেছনে ফেলেছেন হলান্ড।
গোল করার এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে হলান্ডের সামনে আরও কয়েকটি রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও দ্রুত ওপরে উঠছেন তিনি। প্রতিযোগিতাটিতে মেসি ও রোনালদোর মতো দীর্ঘ সময় গোল করে যেতে পারলে ভবিষ্যতে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবেন এই স্ট্রাইকার।
হ্যাটট্রিকের রেকর্ডেও নজর রয়েছে হলান্ডের। চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসি ও রোনালদো দুজনেই আটটি করে হ্যাটট্রিক করেছেন। হলান্ডের সামনে তাঁদের সমান হওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এই রেকর্ড ভাঙতে হলে তাঁকে আরও অনেক মৌসুম গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ১৪ অক্টোবর রোমার বিপক্ষে গোল করে নিজের ১০০তম ম্যাচে ৭২তম গোল পূর্ণ করেন তিনি। বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তাঁর অবস্থান পঞ্চম। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এমন অর্জন তাঁকে ভবিষ্যতের রেকর্ডের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখনো রোনালদোর দখলে। পর্তুগিজ তারকার গোলসংখ্যা ১৪০, আর মেসির গোল ১২৯। এমবাপের সামনে এই দুই কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান গোলের গতি এবং সামনে থাকা সম্ভাব্য মৌসুমগুলো তাঁকে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
তিন তারকার মধ্যে বয়সে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নয়, বরং সবচেয়ে কম বয়সী ইয়ামালকে ঘিরেই দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা বেশি। বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ উইঙ্গার ২০২৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক করেন। উয়েফার ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিযোগিতাটিতে ৩৫ ম্যাচে তাঁর গোল ১২টি এবং অ্যাসিস্ট ১৩টি।
ইয়ামালের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো বয়সভিত্তিক রেকর্ডে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করা। তবে মেসির ৫০ গোলের রেকর্ড ভাঙার আলোচনায় একটি সংশোধন জরুরি। এই মাইলফলকে সবচেয়ে কম বয়সে পৌঁছানোর রেকর্ড ইতিমধ্যে হলান্ডের দখলে। ইয়ামালকে তাই নির্দিষ্ট রেকর্ডের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিসংখ্যান ও নিজের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এগোতে হবে।
একই ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও বড় চ্যালেঞ্জ। বার্সেলোনার হয়ে মেসির গোল ১২০টি, আর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রোনালদোর গোল ১০৫টি। ইয়ামাল দীর্ঘদিন বার্সেলোনায় খেললে এই রেকর্ডের দিকে এগোনোর সুযোগ পেতে পারেন। তবে ১২ গোল থেকে ১২০ গোলের দূরত্ব পেরোতে হলে তাঁকে বহু মৌসুম ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে।
সব মিলিয়ে হলান্ডের গোল করার গতি, এমবাপের অভিজ্ঞতা ও ইয়ামালের অসাধারণ সম্ভাবনা চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মেসি ও রোনালদোর রেকর্ড ভাঙা সহজ হবে না। আগামী কয়েক মৌসুমে এই তিন তারকার পারফরম্যান্সই বলে দেবে, কে কতটা কাছে পৌঁছাতে পারেন ফুটবলের দুই কিংবদন্তির অর্জনের।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন