শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে দুর্গাপূজার উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এসব কথা বলা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন করেন, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটান এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুসারে উৎসব পালন করে আসছেন। প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবেন, এটাই দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সৌন্দর্য।

তারেক রহমান আরও বলেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের এই পরিবেশ বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। মানবতার কল্যাণ সাধনও প্রতিটি ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি অনুসরণের পাশাপাশি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান এবং সহমর্মিতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়, মত কিংবা সম্প্রদায়ভেদে যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও বার্তায় তুলে ধরা হয়।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই সময়ে সব নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সমাজের সব শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রয়োজন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছাবার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আবারও শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি পালনের অধিকার সবার। একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’