সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে ফিফা-আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল বাংলাদেশ। সোমবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গ্যালোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টের করা একমাত্র গোলে জয় পায় সিঙ্গাপুর। এ নিয়ে প্রতিযোগিতায় টানা দুই ম্যাচে হারল থমাস ডুলির দল।
প্রিমিয়ার ডিভিশনের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় ছাড়া বাংলাদেশের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। তবে পুরো ম্যাচে একাধিকবার আক্রমণে উঠেও গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ২৫ মিনিটে মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভালোভাবেই লড়াই করেছে দল। তবে আক্রমণের শেষভাগে গিয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা। ফলে সিঙ্গাপুরের গোলমুখে বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
৭ মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে হলুদ কার্ড দেখেন সমিত সোম। এরপর ১৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করে সিঙ্গাপুর। বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে ইলহান ফান্দির শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
৩০ মিনিটের কুলিং ব্রেকের পর বাংলাদেশের খেলায় কিছুটা ছন্দপতন দেখা যায়। ৩২ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জিদান ইউসুফ। সেই ফ্রি কিক থেকে জ্যাকব উইলিয়ামের হেড গোলমুখে যাচ্ছিল, কিন্তু দুর্দান্তভাবে তা ঠেকিয়ে দেন শ্রাবণ।
ফিরতি বলে আবারও বিপদ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন তারিক কাজী। তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন মিনিট পরই সিঙ্গাপুরের আক্রমণ থেকে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
৩৫ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে নুর আদম আব্দুল্লাহর বাড়ানো ক্রসে দারুণ হেড করেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। কাছ থেকে নেওয়া সেই হেডে বলের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া তেমন কিছু করার ছিল না শ্রাবণের। তাঁর সামনে দিয়েই বল জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে শাহ শাহিরানের দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন শ্রাবণ। এরপর ৫৮ মিনিটে শেখ মোরসালিনকে তুলে মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে মাঠে নামান কোচ থমাস ডুলি।
৬৪ মিনিটে গোলের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে সাদ উদ্দিনের বাড়ানো ক্রসে লাফিয়ে হেড করার চেষ্টা করেন সমিত সোম। তবে তাঁর নেওয়া হেড বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ৭০ মিনিটে আরও দুই পরিবর্তন আনেন ডুলি।
সমিত সোমের জায়গায় সোহেল রানা জুনিয়র এবং শুকি ইতোফুসার জায়গায় মাঠে নামেন ফাহামিদুল ইসলাম। ইতালি প্রবাসী এই ফুটবলার মাঠে আসার পর বাংলাদেশের আক্রমণে কিছুটা গতি বাড়ে। একের পর এক আক্রমণ করেও অবশ্য সিঙ্গাপুরের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ।
৭৯ মিনিটে ফাহামিদুল ইসলামের ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি হয়। রাকিব হোসেনের হেড সিঙ্গাপুরের হ্যারিস স্টুয়ার্টের গায়ে লেগে কর্নারে চলে যায়। এরপর বাকি সময়েও সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল আর আসেনি।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর। এই জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয় এবং মালয়েশিয়া শীর্ষে রয়েছে। টানা দুই ম্যাচে হেরে গ্রুপ পর্বেই বাংলাদেশের শিরোপার আশা শেষ হয়ে গেল।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন