ডেঙ্গু মশাকে ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আজমুল হক বলেছেন, এডিস মশার আচরণে পরিবর্তন এসেছে। আগে দিনে কামড়ালেও এখন রাতে কামড়াচ্ছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মো. আজমুল হক। দেশব্যাপী তিন মাস মেয়াদি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
আজমুল হক বলেন, এডিস মশা আগে সাধারণত দিনে মানুষকে কামড়াত। কিন্তু এখন এই মশা রাতেও কামড়াচ্ছে। মশার এমন পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং দিনের পাশাপাশি রাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এডিস মশা আগে স্বচ্ছ পানিতে জন্মালেও বর্তমানে ময়লা পানিতেও জন্মাচ্ছে। ফলে মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে শুধু নির্দিষ্ট কিছু জায়গা নয়, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের সব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষকেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাই মিলে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার প্রজননস্থল কমানো সম্ভব হবে এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকিও কমবে।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া তিন মাসের এই পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মো. ফারুক। ছিলেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুলী বিশ্বাস।
এ ছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) কাজী হুমায়ুন রশীদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শোভন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন