মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় থানার কাছাকাছি এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সাটুরিয়া থানার উত্তর পাশে উত্তর কাওন্নারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় থানার কিছুটা দূরে কয়েকজন ব্যক্তি স্লোগান দিয়ে নাশকতার চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কৈজুরী গ্রামের আজম আলী (২১), চামুটিয়া গ্রামের মো. কাউসার (২১), মো. রবিন হোসেন (২০) ও মো. আশিকুর রহমান (১৯)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সাটুরিয়া থানার উত্তর পাশে উত্তর কাওন্নারা এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে সাটুরিয়া থানার কাছাকাছি এলাকায় কয়েকজনকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশ যাওয়ার পর চারজনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাশকতার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চারজনের কারও নাম ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে নেই। তবে তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ওই সময়কার কর্মকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে দেখছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের সাটুরিয়া থানায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
পুলিশ জানায়, চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে। এরপর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, সাটুরিয়া থানায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো ধরনের কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চারজন ছাত্রলীগের সমর্থক। তিনি জানান, তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে থানার আশপাশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রাতের সময়, যখন সাটুরিয়া থানার উত্তর পাশের এলাকায় ওই চারজনের উপস্থিতি ও স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পুলিশের দাবি, তারা থানার কিছুটা দূরে অবস্থান করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নাশকতার চেষ্টা করছিলেন। তবে তাদের কথিত নাশকতার পরিকল্পনা বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের নিজেদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যই বর্তমানে মূল তথ্য হিসেবে রয়েছে। মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।
পুলিশের দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে। এদিকে সাটুরিয়া থানার ওসি স্পষ্ট করেছেন, থানার এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।
স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সাটুরিয়ার এ ঘটনাতেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাদের নাম, বয়স ও গ্রামের পরিচয়ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আজম আলীর বয়স ২১ বছর, মো. কাউসারের ২১ বছর, মো. রবিন হোসেনের ২০ বছর এবং মো. আশিকুর রহমানের ১৯ বছর।
সব মিলিয়ে, সাটুরিয়া থানার উত্তর পাশের উত্তর কাওন্নারা এলাকায় রাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তারা নাশকতার চেষ্টা করছিলেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়। সাটুরিয়া থানার পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রম না করতে দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন