নারীদের স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সুবিধা বাড়াতে দেশে আরও ১০০টি পিংক বাস চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে ১৩টি রুটে ১৪টি পিংক বাস চলাচল করলেও প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বাসগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে নারীদের জন্য চলমান পিংক বাস সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম। এ সময় সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেন সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমীন দুলাল, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও মো. মতিয়ার রহমান।

বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটির সদস্যদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

নারীদের জন্য পিংক বাস বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে ১৩টি রুটে ১৪টি বাস চলাচল করছে। তবে স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতকারী নারীদের চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরও ১০০টি পিংক বাস দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কমিটির বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধেও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সোজা ও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন যেসব সড়ক ও মহাসড়ক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সড়ককে সোজা লাইনে নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এসব উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এলাকায় ৭২ একর জমির ওপর নির্মিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রিসোর্টের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, সেতু বিভাগের সচিব এবং মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।