আজ ১৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস (International Day for Failure)। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগাতেই দিনটি পালন করা হয়। সাধারণত সমাজে সফল মানুষের গল্প বেশি আলোচিত হয়, কিন্তু তাঁদের সাফল্যের পেছনে থাকা ব্যর্থতা ও সংগ্রামের গল্প অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। আজকের দিনটি সেই ব্যর্থতাকে স্বীকার করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের সংগঠন আল্টো এন্টারপ্রেনারশিপ সোসাইটি (Aalto Entrepreneurship Society) এ দিবসের সূচনা করে। উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তরুণদের মধ্যে ব্যর্থতা নিয়ে ভয় ও সামাজিক সংকোচ কমানো ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। পরবর্তী সময়ে দিনটির প্রচার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ব্যর্থতাকে লজ্জার বিষয় না ভেবে শেখার একটি সুযোগ হিসেবে দেখার বার্তা দেওয়া হয়।

আমাদের সমাজে সাধারণত জয়ীদের গল্পই বেশি গুরুত্ব পায়। কে কত ভালো ফল করেছেন, কে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেয়েছেন কিংবা কে ব্যবসায় সফল হয়েছেন এসব নিয়ে আলোচনা হয় বেশি। কিন্তু সেই সাফল্যের পথে কতবার তাঁরা বাধার মুখে পড়েছেন, কত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, তা অনেক সময় সামনে আসে না। অথচ ব্যর্থতার পেছনেও থাকে চেষ্টা, পরিশ্রম এবং নতুন করে শুরু করার সাহস।

শিক্ষাজীবনে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হতে পারে। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা থেকে এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা চাকরির প্রতিযোগিতা প্রতিটি ধাপেই প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া কিংবা পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া হতাশার কারণ হতে পারে। তবে একটি ব্যর্থতাকে জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি মনে করলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে এবং পরবর্তী প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কখনো কখনো একটি ব্যর্থতা থেকে আরেকটি ব্যর্থতার চক্র তৈরি হয়। যেমন, এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার হতাশা যদি একজন শিক্ষার্থীকে এইচএসসির প্রস্তুতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তাহলে আগের অভিজ্ঞতার নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন ভুলগুলো চিহ্নিত করা, নিজের দুর্বলতা বোঝা এবং নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়া। অতীতের ভুল যেন ভবিষ্যতের পথ আটকে না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

শুধু পড়াশোনা নয়, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক জীবনেও মানুষ নানা ধরনের ব্যর্থতার মুখোমুখি হন। কোনো কাজে প্রত্যাশিত ফল না এলে নিজেকে দোষারোপ করে থেমে না থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কোথায় ভুল হয়েছে, কীভাবে আরও ভালো করা সম্ভব এবং পরবর্তীবার কোন কৌশল কাজে লাগানো যায় এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই হতে পারে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ।

ব্যর্থতা দিবস পালন করতে নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখা যেতে পারে। ব্যক্তিগত ডায়েরিতে ভুলগুলো নোট করা, বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া কিংবা শান্তভাবে বসে নিজের সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা উপকারী হতে পারে। এতে ভুলের কারণ বোঝা সহজ হয় এবং একই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

ব্যর্থতা মানেই সব শেষ নয়; অনেক সময় এটি নতুনভাবে শেখার সুযোগ তৈরি করে। তাই আজকের দিনটি অতীতের ভুল নিয়ে অনুশোচনায় আটকে থাকার নয়, বরং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। ব্যর্থতাকে নিজের পরিচয় না বানিয়ে অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করাই হোক আজকের অঙ্গীকার।

লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম
শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়