প্রচণ্ড রোদ ও গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা পোশাক পরা, সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং দিনের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা জরুরি। গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়ায় পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও হিট এক্সহস্টশনের ঝুঁকি বাড়ে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে হিটস্ট্রোকও হতে পারে। তাই কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে গরমের অস্বস্তি কমানোর পাশাপাশি শরীরকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

গরমে শরীর সুস্থ রাখার প্রথম শর্ত হলো পর্যাপ্ত তরল পান করা। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করুন। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনে ওআরএস পান করা যেতে পারে।

দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়া যতটা সম্ভব কমাতে হবে। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সূর্যের তাপ বেশি অনুভূত হতে পারে। এ সময় বাইরে যেতে হলে ছায়াযুক্ত রাস্তা বেছে নিন এবং কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা এড়িয়ে চলুন।

পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। গরমে ঢিলেঢালা, হালকা রঙের ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরুন। সুতি কাপড় আরাম দিতে পারে এবং ঘাম শোষণে সহায়তা করে। বাইরে বের হলে মাথা ঢাকতে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যাওয়ার আগে ত্বকের উপযোগী ব্রড-স্পেকট্রাম এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন লাগান। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে এবং ঘামলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় ব্যবহার করুন। চোখ সুরক্ষিত রাখতে ইউভি-প্রতিরোধী সানগ্লাসও ব্যবহার করতে পারেন।

গরমে খাদ্যাভ্যাসে আনতে হবে কিছু পরিবর্তন। অতিরিক্ত ভারী ও তেলযুক্ত খাবারের পরিবর্তে শাকসবজি, ফলমূল এবং সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন। তরমুজ, শসা, কমলা ও অন্যান্য পানিসমৃদ্ধ ফল শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। তবে শুধু ফল বা শরবতের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পানি পান করতে হবে।

প্রচণ্ড গরমে ভারী ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে আনা ভালো। বাইরে কাজ করতে হলে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন এবং ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম করুন। মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম বা বমি ভাব দেখা দিলে কাজ বন্ধ করে ঠান্ডা স্থানে চলে যান। শরীরের সংকেত উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে।

ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখাও জরুরি। দিনের বেলায় সরাসরি রোদ ঢোকে এমন জানালায় পর্দা ব্যবহার করুন এবং নিরাপদভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শুধু ফ্যান সব সময় শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। সম্ভব হলে ঠান্ডা ঘরে অবস্থান করুন।

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁদের নিয়মিত পানি পান করতে উৎসাহিত করুন এবং দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা থেকে বিরত রাখুন। গরমের সময় তাঁদের শারীরিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখুন। একা থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদেরও নিয়মিত খোঁজ নেওয়া জরুরি।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। শরীরের তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া জরুরি অবস্থার লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন এবং অপেক্ষার সময় ব্যক্তিকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করুন। অচেতন ব্যক্তিকে মুখে পানি বা অন্য কিছু খাওয়াবেন না।

প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে সচেতনতা ও নিয়মিত অভ্যাসই সবচেয়ে কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি পান, উপযুক্ত পোশাক, সানস্ক্রিন, বিশ্রাম এবং রোদ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়। তবে গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।