অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র এক মিনিটের মধ্যে কক্সবাজারগামী দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যকার আশফাক নিপুণ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেও টিকিট না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ফেসবুকে তুলে ধরেছেন তিনি। রেলওয়ের টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই পরিস্থিতিকে ‘কমার্স ফিকশন’ বলে মন্তব্য করেন নির্মাতা।

আশফাক নিপুণ জানান, আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। পরিবারের একজন বয়স্ক সদস্যের পক্ষে দীর্ঘ সময় বাসে বসে ভ্রমণ করা কঠিন হওয়ায় ট্রেনকে বেছে নেন তারা। যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হবে জানতে পেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনলাইনে টিকিট কাটার প্রস্তুতি নেন তিনি। কিন্তু ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করার পরপরই দেখেন, দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ।

নির্মাতার প্রশ্ন, একটি টিকিট নির্বাচন, ওটিপি যাচাই এবং পেমেন্ট সম্পন্ন করতে যেখানে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে, সেখানে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুটি ট্রেনের সব টিকিট কীভাবে বিক্রি হয়ে গেল? তাঁর মতে, টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সাধারণ যাত্রীরা নিয়ম মেনে চেষ্টা করেও টিকিট না পেলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

রেলওয়ের টিকিট বিক্রিতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগও তুলে ধরেন আশফাক নিপুণ। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের টিকিট পাওয়ার ভোগান্তি যেন কাটছে না। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় টিকিট বিক্রির ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর ও রেলওয়ের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারলে সেটি হবে সরকারের বড় সাফল্য।

অনলাইনে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এর আগেও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। তবে টিকিট শেষ হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা জরুরি। টিকিটের চাহিদা, অনলাইন ব্যবস্থার সক্ষমতা, একসঙ্গে প্রবেশ করা ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম সব দিক খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি নিয়ে অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলি ১১) স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন। পরে ১ অক্টোবর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। বর্তমানে পিবিআইয়ের একজন উপপরিদর্শক মামলাটি তদন্ত করছেন। তদন্তে কী উঠে আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ যাত্রীরা যাতে হয়রানি ছাড়াই ন্যায্যভাবে টিকিট কিনতে পারেন, সে জন্য স্বচ্ছ বিক্রিব্যবস্থা ও কার্যকর নজরদারির দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।