হঠাৎ চুল পড়া বেড়ে গেলে অনেকেই চিন্তায় পড়েন। প্রতিদিন কিছু চুল ঝরা স্বাভাবিক হলেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে থাকলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। পুষ্টিবিদ রাশি চৌধুরীর মতে, চুল পড়ার কারণ সব সময় সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে চুল ঝরার পেছনে কয়েক মাস আগের অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ভূমিকা রাখতে পারে।
হঠাৎ চুল পড়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো শারীরিক বা মানসিক চাপের প্রভাব। জ্বর বা গুরুতর অসুস্থতা, দ্রুত ওজন কমানো, অপর্যাপ্ত খাবার খাওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার কারণে স্বাভাবিক চুলের বৃদ্ধি চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে অনেক চুল একসঙ্গে বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যায় এবং কয়েক মাস পর ঝরতে শুরু করে। তাই চুল পড়া বাড়লে শুধু সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনা নয়, গত দুই থেকে তিন মাসের স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের পরিবর্তনও বিবেচনা করা দরকার।
চুল পড়ার সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা যেতে পারে। ফেরিটিন পরীক্ষা শরীরে সঞ্চিত আয়রনের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেয়। আয়রনের ঘাটতি কিছু মানুষের চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে ফেরিটিনের কত মাত্রা উপযুক্ত, তা ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখে নিজে নিজে আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।
হঠাৎ চুল পড়ার পেছনে থাইরয়েডের সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে। থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধিতেও প্রভাব ফেলে। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী টিএসএইচ, ফ্রি টি৪ এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা জরুরি, কারণ চুলের গঠনে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিম, মাছ, দুধ, ডাল ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। দৈনিক কতটা প্রোটিন দরকার, তা ব্যক্তির ওজন, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
চুল পড়ার কারণ শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেও দ্রুত ফল নাও দেখা যেতে পারে। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র ধীর হওয়ায় পরিবর্তন বুঝতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সাধারণভাবে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। তবে চুলের ঘনত্ব দ্রুত কমে গেলে, নির্দিষ্ট স্থানে ফাঁকা হয়ে গেলে, মাথার ত্বকে চুলকানি বা ক্ষত দেখা দিলে কিংবা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চুল ঝরতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চুল পড়া কমানোর জন্য কারণ না জেনে বায়োটিন, আয়রন বা কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়। নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি না থাকলে এসব সাপ্লিমেন্ট সবার ক্ষেত্রে উপকার করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চুলের প্রতি কোমল আচরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ চুল পড়া শুরু হলে কখন থেকে সমস্যা হচ্ছে, সম্প্রতি কোনো অসুস্থতা হয়েছে কি না এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে কি না, সেসব তথ্য চিকিৎসককে জানান। সঠিক কারণ শনাক্ত করাই চুলের যত্নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রথম ধাপ।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন