নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে কুয়েতের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিকাশ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, তাদের সময় থেকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার যে ভিত্তি গড়ে উঠেছে, তা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের জনগণের স্বার্থে এই সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
বাংলাদেশের জন্য কুয়েত একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক অংশীদার। এ কারণে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান নিউইয়র্ক সফরের একাধিক দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচির একটি। সফরকালে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিতে ছিলেন।
সফরের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার কথা ছিল।
নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও ছিল প্রধানমন্ত্রীর।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর।
বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। ফলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠকে এসব খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আলোচনা ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন