জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার পথে যাত্রা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি ছিল তার প্রথম অংশগ্রহণ ও ভাষণ।
নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টার দিকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন। ফ্লাইটটি দুবাই হয়ে ঢাকায় আসবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছান। সফরের শুরু থেকেই তার কর্মসূচিতে ছিল একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। পাঁচ দিনের সফরে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন নীতি অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেন।
সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
এ ছাড়া সফরের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তুরস্ক, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতি, জলবায়ু ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষ করে এখন দেশের পথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তার পরবর্তী সরকারি কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। সফর শেষে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনাগুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সরকারি পর্যায়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন