মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া শুধু দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতেই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মুখের ভেতরে শত শত ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এদের কিছু দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ সৃষ্টি করতে পারে, আবার কিছু ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারের ধরন মুখের এই অণুজীবের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সবুজ শাকসবজি মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য ভালো খাবার হিসেবে বিবেচিত। পালং শাক, বিটরুট ও মূলার মতো নাইট্রেটসমৃদ্ধ খাবার মুখের কিছু ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। এই উপাদান রক্তনালির কার্যক্রম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখা উপকারী।
রসুনও মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে থাকা অ্যালিসিন নামের যৌগের অণুজীববিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের উপাদান দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তবে শুধু রসুন খেলেই মুখের সব সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
চা ও গাঢ় রঙের বেরিজাতীয় ফলে থাকা পলিফেনল মুখের ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। চায়ের কিছু উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও দাঁতে প্লাক তৈরির প্রক্রিয়া কমাতে সহায়তা করতে পারে। ক্র্যানবেরির কিছু উপাদানও ব্যাকটেরিয়ার দাঁতে লেগে থাকার প্রবণতা কমাতে পারে। তবে চিনি মেশানো চা বা ফলের জুস অতিরিক্ত খেলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিজ খাওয়ারও কিছু উপকার রয়েছে। চিজ চিবালে মুখে লালা তৈরি বাড়ে। লালা দাঁতের ওপর জমে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে এবং মুখের অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। কিছু ছোট গবেষণায় চিজ খাওয়ার সঙ্গে মুখের নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে অ্যাসিড তৈরির সুযোগ দেয়। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক ও অন্যান্য পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটও মুখের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভেঙে অ্যাসিড তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এসব খাবার সীমিত রাখা ভালো।
মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না। দিনে দুইবার ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, নিয়মিত দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত পরিচর্যা দাঁত-মাড়ির সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন