ব্যবসার টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে অর্থ দাবি করা হয়েছে, এমন প্রমাণ না থাকলে শুধু ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়াকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী যৌতুক বলা যাবে না। এ পর্যবেক্ষণ দিয়ে সাত বছর আগে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
খালাস পাওয়া ব্যক্তির নাম মো. রাসেল উদ্দিন। কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাসেল হাইকোর্টে আপিল করেন। গত ৩ আগস্ট বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ আপিল মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। পরে ১২ পৃষ্ঠার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাসেল উদ্দিন ও ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোডের একটি ভাড়া বাসায় রাসেল ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চান। ইসমত আরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন।
আপিল শুনানির সময় হাইকোর্ট মামলার নথি ও ছয় সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন। আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২(ঞ) ধারায় বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের অর্থ বা সম্পত্তি দাবিকে যৌতুক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কিন্তু এই মামলায় এক লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করা হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্যপ্রমাণে অসংগতি পেয়েছেন আদালত। বাদী তাঁর জবানবন্দিতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাতের কথা বললেও চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও মেডিকেল সনদে বাম কাঁধে আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল। আদালতের মতে, সাক্ষ্য ও চিকিৎসা নথির এই বৈপরীত্য নির্যাতনের অভিযোগকে সন্দেহের মুখে ফেলে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশ বাতিল করে রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেন।
আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আল রেজা মো. আমির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন। আদালতের পর্যবেক্ষণটি মামলার নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; তাই এটিকে সব ধরনের অর্থ দাবি বা পারিবারিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে একই ফল হবে, এমন সাধারণ নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন