ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশের হারটা শেষ পর্যন্ত দাঁড়াল বিশাল ব্যবধানে। ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইন্দোনেশিয়া। প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের দল।
এই ম্যাচের আগে আসরে বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি ছিল জয় দিয়ে অভিযান শেষ করার সুযোগ। কিন্তু সেই ম্যাচেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে দলকে। তিন ম্যাচ শেষে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করে ইন্দোনেশিয়া। ১১ মিনিটে ওলে রোমেনির পাস থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন মিচেল লি বেকার। মাত্র নয় মিনিট পর আবারও গোল করেন তিনি। এতে ২০ মিনিটের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বাংলাদেশের রক্ষণ সামলে ওঠার আগেই ৩২ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান রিজকি রিদো। তিন গোলের পিছিয়ে থেকেও বাংলাদেশ আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করে। তার ফল আসে ৩৬ মিনিটে। শুখির ক্রস থেকে হেড করে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন। এতে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-১।
তবে বাংলাদেশের এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এক মিনিট পরই নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বেকার। এরপর ৪২ মিনিটে নিজের চতুর্থ গোল করে বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হাবনার গোল করলে ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইন্দোনেশিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলা কিছুটা গুছিয়ে আসে। বেশ কিছু সময় ইন্দোনেশিয়াকে আর গোল করতে দেয়নি তারা। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। ফলে প্রথমার্ধের পরপরই ব্যবধান বাড়তে পারেনি স্বাগতিকরা।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে আবারও গোলের বন্যা শুরু হয়। ৯০ মিনিটে লুক ভিকারি ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম গোল করেন। এর এক মিনিট পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোলটি পায়। রাকিব হোসেনের পাস থেকে গোল করেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-২।
এরপর যোগ করা সময়েও বাংলাদেশের রক্ষণ সামলাতে পারেনি ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ। ৯০+৬ মিনিটে কেভিন ডিক্স গোল করে ব্যবধান ৮-২ করেন। এরপর মিচেল বেকার নিজের পঞ্চম গোল করে ইন্দোনেশিয়ার জয় ৯-২ নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে ফিফা আসিয়ান কাপের ফাইনালে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। সমান গ্রুপে মালয়েশিয়া চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় এবং সিঙ্গাপুর তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে। বাংলাদেশ কোনো পয়েন্ট না পেয়ে গ্রুপের শেষ অবস্থানে থেকে আসর শেষ করেছে।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রতিপক্ষের নয় গোলের বিপরীতে দুই গোল করলেও পুরো ম্যাচে দলকে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক চাপে থাকতে হয়েছে। শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদের গোল দুটি শুধু ব্যবধান কিছুটা কমিয়েছে। অন্যদিকে বেকারের পাঁচ গোল ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণভাগের আধিপত্য স্পষ্ট করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলের এই হার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বড় পরাজয়গুলোর একটি। এর আগে ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড এখনো ১৯৭৯ সালে জাপান এবং ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে ৯-০ ব্যবধানের হার।
ফলে ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসর বাংলাদেশের জন্য শেষ হয়েছে কোনো জয় বা পয়েন্ট ছাড়াই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচে মোট ১৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ, বিপরীতে গোল করেছে মাত্র দুইটি। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন