কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সিল-সই জালিয়াতির অভিযোগে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ জাল ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, সরকারি কর্মকর্তাদের সিল এবং জাল সিল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবু সাইদ হোসেন লাভলু (২৮)। তিনি উপজেলার শরিফেরহাট খন্দকারপাড়া এলাকার মৃত জহরত আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ভূমি অফিসের পাশে কম্পিউটারের ব্যবসার আড়ালে ভূমি-সংক্রান্ত নথি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কীভাবে ধরা পড়ল জালিয়াতি:
জানা গেছে, সম্প্রতি এক কৃষক নামজারির আবেদন করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি খতিয়ান জমা দেন। নথিটি যাচাই করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে কৃষকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, স্থানীয় একটি কম্পিউটার দোকান থেকে ওই খতিয়ান সংগ্রহ করেছেন।
এরপর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ার পর বুধবার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে যা উদ্ধার হলো:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আবু সাইদের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—
- এসএ, আরএস ও সিএস খতিয়ানের জাল কপি
- বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার ব্যবহৃত সিল
- জাল সিল তৈরির সরঞ্জাম
- ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র
- কম্পিউটারে সংরক্ষিত জাল নথির নমুনা ও অন্যান্য আলামত
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে জাল নথি তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য:
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, সরকারি নথি ও কর্মকর্তাদের সিল-সই জাল করা গুরুতর অপরাধ। অভিযানে প্রাথমিকভাবে অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আবু সাইদ হোসেন লাভলুকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া জাল কাগজপত্র ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তে আসতে পারে আরও তথ্য:
প্রশাসনের ধারণা, এই জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে অনেক ব্যক্তি ভুয়া খতিয়ান ও ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাই উদ্ধার হওয়া কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং নথিপত্র পরীক্ষা করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ভূমি অফিসসংলগ্ন এলাকায় এমন জালিয়াতির ঘটনা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তারা দ্রুত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন