দুর্গাপূজার উৎসবের আমেজে জমজমাট পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারী বাজার। সরু গলিজুড়ে ক্রেতাদের ভিড়, দোকানে দোকানে বেচাকেনার ব্যস্ততা আর পূজার সামগ্রী কেনার ধুম সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সেখানে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে শাঁখা, সিঁদুর, পিতল-কাঁসার সামগ্রীসহ নানা পূজার উপকরণে।

শাঁখারী বাজারে শাঁখা-সিঁদুরের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা ঘিরে বাজারের ছোট-বড় দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। প্রতিমা মণ্ডপে নেওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি চলছে পরিবারের জন্য পোশাক ও পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে নানা নকশা ও কারুকাজের শাঁখা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বিবাহিত নারীদের কাছে শাঁখা ও সিঁদুরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব থাকায় পূজার আগে এগুলোর চাহিদা বেড়েছে। অনেক ক্রেতা পুরোনো শাঁখা বদলে নতুন শাঁখা পরছেন। আবার বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলার প্রস্তুতি হিসেবে অনেকে কিনছেন সিঁদুর ও আবির।

শুধু শাঁখা-সিঁদুর নয়, পূজার অন্যান্য সামগ্রী কেনাকাটাতেও ব্যস্ত ক্রেতারা। পদ্মফুল, পিতল ও কাঁসার তৈরি জিনিসপত্র, প্রদীপ, মাটির ঘট, ধূপদানি এবং আলপনা আঁকা কুলার মতো উপকরণ বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। মাটির তৈরি ছোট প্রতিমায় রঙের কাজ করছেন কারিগরেরা। পাশাপাশি প্রতিমার ফটো ফ্রেম ও পূজার সাজসজ্জার সামগ্রী কিনতেও ভিড় করছেন অনেকে।

বাজারের কাপড়ের দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন শাড়ি ও পোশাক কিনছেন অনেকে। কেনাকাটার পাশাপাশি শাঁখারী বাজার মন্দিরে প্রতিমার সামনে প্রণাম জানাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ ঘণ্টা বাজিয়ে পূজা দিচ্ছেন এবং অর্থ উৎসর্গ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় দুর্গাপূজায় তাঁদের বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। শাঁখারী বাজারের ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র দাস এনপিবি নিউজকে বলেন, সারা বছর কমবেশি বিক্রি হলেও পূজার সময়ে কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। দেশি-বিদেশি নকশার শাঁখা, সিঁদুর এবং পিতলের প্রদীপ ও ঘট এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কেনাকাটা করতে আসা বাসন্তী রানী বলেন, শাঁখারী বাজারে কেনাকাটা করা তাঁর কাছে উৎসবের আনন্দেরই অংশ। এখানকার শাঁখা ও সিঁদুরের মানের প্রতি আস্থা রয়েছে তাঁর। বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলার জন্য খাঁটি আবির ও সিঁদুর কিনতে প্রতিবছরই পুরান ঢাকায় আসেন বলে জানান তিনি।

আরেক ক্রেতা আঁচল রায় জানান, পূজার শেষ মুহূর্তে শাঁখারী বাজারে এলে উৎসবের প্রকৃত আমেজ পাওয়া যায়। ভিড় থাকলেও পূজার পোশাক থেকে শুরু করে মাটির ঘট, আলপনা আঁকা কুলা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী এক জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে।

উৎসবের এই ব্যস্ততার মধ্যে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, বাজারের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা স্থাপনের মণ্ডপ সাজানোর কাজও চলছে।

সব মিলিয়ে শাঁখা-সিঁদুরের দোকান থেকে শুরু করে পোশাক ও পূজার উপকরণের বাজার সবখানেই এখন উৎসবের ব্যস্ততা। দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড়ে পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার ফিরে পেয়েছে তার চেনা উৎসবের রূপ।