রুশ তেল শোধনাগার ড্রোন হামলা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। পশ্চিম রাশিয়া থেকে শুরু করে ভলগা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত একাধিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ৮৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি। এর মধ্যে কিরিশি, মস্কো, নিজনি নোভগোরোদ, রিয়াজান এবং ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যান্টগুলো রয়েছে। এসব স্থাপনা রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশেষভাবে কিরিশি শোধনাগার, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২০ মিলিয়ন মেট্রিক টন, বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া নোরসি শোধনাগারেও হামলা হয়েছে, যার উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১৭ মিলিয়ন টন। এসব ঘটনায় রাশিয়ার গ্যাসোলিন ও ডিজেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো রাশিয়ার মোট গ্যাসোলিন উৎপাদনের ৩০ শতাংশের বেশি এবং ডিজেল উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করে। ফলে এই রুশ তেল শোধনাগার ড্রোন হামলা সরাসরি দেশটির জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে রাশিয়া গ্যাসোলিন রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক তেল বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাশিয়ার অর্থনীতির একটি বড় অংশ তেল ও গ্যাস খাতের ওপর নির্ভরশীল। মোট ফেডারেল রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে এই খাত থেকে। তাই চলমান হামলায় শুধু উৎপাদন নয়, বরং সরকারের বাজেট ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও চাপের মুখে পড়ছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন