গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আটক দুই মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষেও ভাঙচুর চালায়। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এটিএসআই) নূরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিকুর রহমান। তাঁদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ৫৮টি ইয়াবাসহ মো. আনিছ (১৮) ও শিমলা আক্তার (২২) নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। আনিছের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। শিমলা গাজীপুর সদর থানার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের চা বাগান বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে প্ল্যাটফর্মের এক পাশে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালায় রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় দুজনকে আটক করে জংশনের পাশে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফাঁড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলাকারীরা আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে নূরুল ইসলাম ও আশিকুর রহমান আহত হন। পরে ফাঁড়ির অন্য পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলাকারীদের বেশির ভাগই কিশোর বয়সী।

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেন জানান, হামলাকারীরা আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিতে পারেনি। ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও সদর মেট্রো থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে তাঁর কক্ষের দরজা-জানালায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ভাঙচুর চালায়। পরে স্টেশনের পূর্ব পাশে থাকা পুলিশ ফাঁড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দরজা-জানালা ভাঙচুর করে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, পুলিশের ওপর হামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। আটক আনিছ ও শিমলাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।