নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় রাজধানী ঢাকায় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে স্থগিত করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরীক্ষা স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সাতমসজিদ সড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জাহিদুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতমসজিদ সড়কে এবং সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবরোধ দেখা যায়।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে তাঁদের জানানো হয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রার্থী জানান, পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক মিনিট আগে তাঁরা এ খবর পান। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন।

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পোস্টও প্রকাশিত হয়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকাশিত প্রশ্নের যতটুকু পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হকও পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে। ফলে পরীক্ষার্থীদের এখন নতুন সময়সূচির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন পরীক্ষার তারিখ দ্রুত ঘোষণা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তাঁরা।