বিশ্ববাজারে টানা কমছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্তে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অব্যাহত থাকায় তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৩ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.১ শতাংশ কমে ৮৮.৪৩ ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগের দিন সোমবারও তেলের বাজারে বড় পতন দেখা যায়। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৯৩ ডলার বা ১.৯ শতাংশ কমে ১০০.৩২ ডলারে নেমেছিল। ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১.৬৮ ডলার বা ১.৮ শতাংশ কমে ৮৯.৪৩ ডলারে দাঁড়ায়।

তবে সেপ্টেম্বরজুড়ে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। মাসের শেষ দিনে ব্রেন্টের দাম ১০৩.৫০ ডলারে লেনদেন শেষ করে, যা মাসিক হিসাবে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। ডব্লিউটিআইও ৯০.৪২ ডলারে ছিল। অক্টোবর শুরু হওয়ার পর সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় বাজারের চিত্র বদলাতে শুরু করে।

তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি বৃদ্ধি। সেপ্টেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেলে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ রপ্তানির পরিমাণ।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এমনকি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়। এতে সংঘাতের মধ্যেও বাজারে তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এমন বার্তা পেয়েছে বাজার।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জি-৭-এর জরুরি মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত। জোটভুক্ত দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে মোট ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের তেল পরিবহন ব্যবস্থায়ও কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরেছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন চালুর পর লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে আবার ট্যাংকারে তেল তোলা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরামকো এশিয়ার বাজারে আরব লাইট ক্রুডের বিক্রয়মূল্য কমিয়েছে।

তবে তেলের বাজার পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হুথিদের হামলার কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে। ফলে তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৪ অক্টোবর ওপেক প্লাস নভেম্বরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংঘাতের পরিস্থিতি বদলালে তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।