চট্টগ্রামে সশস্ত্র হামলা ঘিরে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়েছে নগরজুড়ে। নগরের চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে দিনের আলোতেই একদল অস্ত্রধারী ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকের দাবি, কয়েক দিন আগে মোবাইল ফোনে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই টাকা না দেওয়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

সোমবার দুপুরে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলাকালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা অফিসের কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামে সশস্ত্র হামলার তদন্ত
সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের প্রবেশের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন জানান, ঘটনার দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা হঠাৎ অফিসে ঢুকে কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ভাঙতে দেখা যায়। এ সময় অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হামলার পর পুরো এলাকায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।

চট্টগ্রামে সশস্ত্র হামলার সিসিটিভি ফুটেজ
ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে বিদেশে অবস্থানরত এক শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও শুরু হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনা বেড়েছে। নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তদন্ত শেষ হলে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে পুলিশ।