টাঙ্গাইল হত্যা মামলা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচিত একটি ঘটনার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। জেলার সদর উপজেলার এক বৃদ্ধকে হত্যা করার ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ আটজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় অধিকাংশ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের এ রায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছোট বিন্যাফৈর (চরপাড়া) গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। নিহত মোহাম্মদ আলীর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের এই বিরোধ একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৪ জুলাই সকালে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার সময় ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন দেশীয় সামগ্রী ব্যবহার করে মোহাম্মদ আলীর ওপর হামলা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি প্রাণ হারান। পরে নিহতের মেয়ে মর্জিনা আক্তার বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। এরপরই আটজন আসামির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। আইনজীবীদের মতে, জমি ও সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ থেকে যেন আর কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও এই রায় একটি বার্তা বহন করবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারও আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
দণ্ডিত আসামিরা
১. দবির উদ্দিন
২. রফিক মিয়া
৩. তোফাজ্জল হোসেন
৪. ময়দান আলী
৫. হাসেম আলী
৬. আ. রহমান
৭. শিল্পী বেগম
৮. হযরত আলী


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন