বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ (Comprehensive Economic Partnership Agreement) চুক্তির দর-কষাকষি শেষ হয়েছে। এখন আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দুই দেশের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সরকারের আশা, এই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, প্রস্তাবিত সিইপিএ শুধু বাণিজ্য বাড়ানোর চুক্তি নয়; এটি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে। উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের সম্পর্ক এখন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির এই সময়ে বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ কার্যকর হলে রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বাংলাদেশকে নিজের ‘দ্বিতীয় শহর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার, শিল্প সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতার কারণেই সিইপিএ আলোচনা দ্রুত শেষ করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, এই চুক্তি আগামী দুই দশকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি স্থিতিশীল আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং নতুন শিল্প সহযোগিতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার আরও বৈচিত্র্যময় হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের শিল্পখাত নতুন গতি পেতে পারে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন