এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকও জিততে পারল না বাংলাদেশ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে পদকহীন থাকতে হয়েছে লিটন দাসের দলকে। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

এই হারের ফলে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এবার পুরুষ ও নারী, দুই দলই কোনো পদক জিততে পারল না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি হতাশার ফল। এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত দেশের একমাত্র পদক এসেছে উশু থেকে, যেখানে ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ।

ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। শুরুতেই অবশ্য তাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশের বোলিং। মাত্র ৩.৫ ওভারে ২১ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। মেহেদী হাসান শুরুতেই দুটি উইকেট তুলে নেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া আলিস আল ইসলামও নিজের প্রথম উইকেট পান। এরপর সোহান ডি লিভেইরাকে রানআউট করে আরও বিপাকে ফেলে বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার বড় সংগ্রহের আশা তখন খুব একটা ছিল না। কিন্তু ম্যাচের মাঝপথে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সায়ান আরাচ্চিগে ও আশেন বান্দারা মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। বান্দারা ২৪ বলে ১৮ রান করে আউট হলেও আরাচ্চিগে দলের স্কোর এগিয়ে নেন।

এরপর ব্যাট হাতে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেন থারিন্দু রত্নায়েকে। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। মাত্র ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন রত্নায়েকে। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। ২৬ বলে ফিফটি পূরণ করে তিনি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান ওঠায় বাংলাদেশও চাপে পড়ে যায়। বিশেষ করে ১৪তম ওভারটি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলে। মোস্তাফিজুর রহমানের সেই ওভারে ২৫ রান নেয় শ্রীলঙ্কা। পরে শেষ পাঁচ ওভারে তারা ৮৩ রান সংগ্রহ করে। একসময় ২১ রানে চার উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে ফেলে।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান, সাইফ হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান দুটি করে উইকেট নেন। রিশাদ হোসেন পান একটি উইকেট। তবে শুরুতে পাওয়া সাফল্য ধরে রাখতে না পারায় শ্রীলঙ্কাকে তুলনামূলক ভালো স্কোরে পৌঁছাতে হয়।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৬৬ রান। কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই বড় ধাক্কা খায় দল। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক লিটন দাস, তিনজনই দ্রুত কোনো রান না করে আউট হন। ফলে মাত্র কয়েক ওভারের মধ্যেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ চাপে পড়ে যায়।

তাওহিদ হৃদয় কিছুটা আশা জাগালেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬ বলে ১১ রান করে তিনিও ফিরে যান। এরপর পরপর দুই বলে পারভেজ হোসেন ইমন ও মেহেদী হাসান আউট হলে বাংলাদেশের স্কোর ৬৪ রানে ছয় উইকেটে দাঁড়ায়। সেখান থেকে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

মাঝের দিকে ইয়াসির আলী ও পারভেজ হোসেন ইমন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ইয়াসির ১৬ বলে ২১ রান করেন। পারভেজ করেন ২০ রান। তবে বড় জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

শেষ দিকে নাসুম আহমেদ কিছুটা লড়াই করেন। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৮ বলে ২৬ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ শতরানের ঘরে পৌঁছালেও ম্যাচের ফল বদলানোর মতো পর্যাপ্ত রান করা সম্ভব হয়নি।

১৭.৩ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ১০২ রানে। শ্রীলঙ্কার হয়ে নুয়ান থুশারা, থারিন্দু রত্নায়েকে, বিজয়কান্ত ভিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৬৫ রান করার পর বল হাতেও দুটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে বড় অবদান রাখেন রত্নায়েকে।

ফলে ৬৩ রানের জয় নিয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। আর বাংলাদেশকে ফিরতে হচ্ছে কোনো ক্রিকেট পদক ছাড়াই। শুরুতে প্রতিপক্ষকে মাত্র ২১ রানে চার উইকেটে চাপে ফেলেও সেই সুবিধা ধরে রাখতে না পারা এবং রান তাড়ায় টপ অর্ডারের দ্রুত পতনই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হারের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।