দ্য বিগ ব্যাং থিওরি শুধু একটি টিভি সিরিজ নয়, অনেক দর্শকের কাছে এটি যেন পুরোনো পরিচিত এক ঠিকানা। ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবার প্রচারের পর কেটে গেছে ১৯ বছর। তবুও সিরিজটির জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং পুরোনো দর্শকেরা এখনো প্রিয় পর্বগুলো দেখেন, আর নতুন প্রজন্মও নানা ক্লিপ ও মিমের মাধ্যমে এই সিরিজের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। ১২টি সিজনে মোট ২৭৯টি পর্ব নিয়ে সিরিজটি টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত সিটকমে পরিণত হয়েছে।
চাক লোরে ও বিল প্র্যাডির তৈরি এই সিরিজের গল্প মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় থাকা একদল বন্ধু ও তাদের দৈনন্দিন জীবনকে ঘিরে। পদার্থবিদ লিওনার্ড হফস্ট্যাডটার ও শেলডন কুপারের সঙ্গে ছিলেন হাওয়ার্ড ওলোভিটজ, রাজ কুথরাপালি এবং পাশের অ্যাপার্টমেন্টে থাকা পেনি। পরে অ্যামি ফারাহ ফাউলার ও বার্নাডেট রোস্টেনকোস্কি যুক্ত হলে বন্ধুত্বের এই পরিসর আরও বড় হয়।
সিরিজটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল এর পরিচিত পরিবেশ ও চরিত্রগুলো। শেলডনের অদ্ভুত নিয়ম, নির্দিষ্ট জায়গায় বসার অভ্যাস এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে তার অস্বস্তি দর্শকদের নিয়মিত হাসিয়েছে। অন্যদিকে লিওনার্ডের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, সম্পর্ক নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং শেলডনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। পেনি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের মানুষ হয়েও ধীরে ধীরে পুরো দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন হয়ে ওঠেন।
হাওয়ার্ড ও রাজের চরিত্রও সিরিজটির হাস্যরসের বড় অংশ। সময়ের সঙ্গে হাওয়ার্ডের জীবনে বিয়ে, সন্তান ও মহাকাশযাত্রার মতো বড় পরিবর্তন আসে। রাজও নিজের আত্মবিশ্বাস ও সম্পর্কের নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। অ্যামি ও বার্নাডেট যুক্ত হওয়ার পর গল্পের চরিত্রগুলোর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ফলে সিরিজটি শুধু বিজ্ঞানী ও ‘নার্ড’দের নিয়ে মজার গল্পে আটকে থাকেনি; ধীরে ধীরে এটি বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, পরিবার ও বড় হয়ে ওঠার গল্পে পরিণত হয়েছে।
তবে এত বছর পর সিরিজটিকে ফিরে দেখলে কিছু সমালোচনাও সামনে আসে। বিজ্ঞানী, নার্ড, সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর মানুষ, নারী ও সম্পর্ক নিয়ে কিছু পুরোনো রসিকতা বর্তমান সময়ে ভিন্নভাবে দেখা হয়। বিশেষ করে সিরিজের শুরুর দিকের কিছু চরিত্রকে নির্দিষ্ট স্টেরিওটাইপের মধ্যে দেখানো হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে অবশ্য চরিত্রগুলো বদলেছে, সম্পর্কগুলো পরিণত হয়েছে এবং নারীরাও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন।
তারপরও দ্য বিগ ব্যাং থিওরি এত বছর ধরে দর্শকের কাছে ফিরে আসার একটি বড় কারণ হলো এর স্বস্তিদায়ক আবহ। জটিল গল্প বা প্রতিটি পর্বের আগের ঘটনা মনে রাখার প্রয়োজন নেই। পরিচিত চরিত্র, সহজ হাস্যরস এবং বন্ধুত্বের মুহূর্তগুলো দর্শককে দ্রুত গল্পের মধ্যে নিয়ে যায়। কমিকস, গেম, বিজ্ঞান, সিনেমা ও পপ কালচার নিয়ে চরিত্রগুলোর আগ্রহও সিরিজটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। ১৯ বছর পরও তাই অনেকের কাছে এটি নতুন কোনো সিরিজ খোঁজার চেয়ে পুরোনো প্রিয় বন্ধুদের কাছে ফিরে যাওয়ার মতো।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন