সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নীতিগত নিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। সরকারের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। এতে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক উদ্যোগ। পরিবারের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত সদস্যদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার জন্য কৃষক কার্ড ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বড় একটি অংশ নারী হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মী স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য রেফার করার কাজে যুক্ত থাকবেন। বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কাছাকাছি আসার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল বা সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আনন্দময় শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান একাধিক খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষতা উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সময়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ। সম্মেলনে ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস, বাণিজ্য, জলবায়ু ও মানব নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটিই হবে মূল বিষয়।