৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত গেজেটে ৬১১ জনের নাম রয়েছে। ফলে সাময়িকভাবে মনোনীত ৫৭ জনের মতো সোহেল রানাও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
জানা গেছে, ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন নীলফামারীর সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের মো. সোহেল রানা। তিনি কৃষক আবু হোসেন ও গৃহিণী সাহিদা বেগমের চতুর্থ সন্তান। তার সাফল্যে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ তৈরি হলেও গেজেটে নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোহেল রানা ২০২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৩.৫৪ পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ২০২১ সালে একই বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৩.৫৬ পেয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ২০১৪ সালে সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান তিনি। ২০১৬ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
বুধবার প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে নিজের নাম না দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহেল রানা। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ধন্যবাদ, বাংলাদেশ ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ১ম হয়েও আমাকে গেজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য।’ তার এই পোস্টের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছিল, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন পদে ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে প্রার্থী মনোনয়ন করা সম্ভব হয়নি।
পিএসসির চূড়ান্ত ফলের পর নিয়োগের আগে প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়। এর পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফলে পিএসসির চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে মনোনীত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে প্রথম হওয়া সোহেল রানাও। তবে তাকে কেন চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।
সোহেল রানার ঘটনাটি সামনে আসার পর বিসিএসের চূড়ান্ত ফল, যাচাই প্রক্রিয়া ও গেজেট প্রকাশের ধাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পরীক্ষায় একটি বিষয়ে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে গেজেট থেকে বাদ পড়ার কারণ আরও স্পষ্ট হবে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন