সামাদ মোল্লাহ—একসময় যাত্রাপালার মঞ্চে যাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করত, আজ তিনি জীবিকার প্রয়োজনে চায়ের দোকান চালান। তবে সময়ের পরিবর্তন আর অর্থনৈতিক বাস্তবতা তাঁর শিল্পীসত্তাকে থামাতে পারেনি। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েও তিনি আঁকড়ে রেখেছেন প্রিয় দোতারা আর লোকসংগীতের ঐতিহ্য।
একসময় বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রাদলে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন সামাদ মোল্লাহ। মঞ্চে তাঁর সংলাপ, অভিনয় এবং গানের দক্ষতা দর্শকদের আকৃষ্ট করত। কিন্তু যাত্রাশিল্পের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করলে আয়ের পথও সংকুচিত হয়ে আসে। ফলে সংসারের দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে নতুন পেশার সন্ধান করতে হয়।
জীবিকার তাগিদে এখন তিনি একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় দোকানে ব্যস্ত থাকলেও অবসর পেলেই হাতে তুলে নেন দোতারা। সুরের মূর্ছনায় তিনি যেন ফিরে যান সেই পুরোনো দিনগুলোতে, যখন মঞ্চ আর দর্শকদের করতালিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, সামাদ মোল্লাহ শুধু একজন দোকানি নন, তিনি এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। দোকানে বসেই মাঝেমধ্যে তিনি লোকগান পরিবেশন করেন। তাঁর গান শুনতে আশপাশের মানুষ ভিড় জমান। অনেক তরুণও তাঁর কাছ থেকে লোকসংগীত সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখান।
সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, সামাদ মোল্লাহর মতো শিল্পীরা দেশের লোকসংস্কৃতির জীবন্ত ধারক। পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় অনেক প্রতিভাবান শিল্পী আজ নানা পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। তবু তাঁদের শিল্পচর্চা অব্যাহত থাকা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
সব মিলিয়ে সামাদ মোল্লাহর জীবনগল্প সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি অটুট নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। যাত্রার নায়ক থেকে চায়ের দোকানি হওয়ার পথচলা সহজ ছিল না, কিন্তু দোতারার সুর আজও তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ হয়ে রয়েছে। শিল্পের প্রতি এই নিবেদন অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন