লালনের সমতার শিক্ষা ও মানবিক দর্শন চর্চার মাধ্যমে ধর্মীয় উগ্রতা, ভেদাভেদ এবং পারস্পরিক অসম্মান দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তাঁর মতে, প্রত্যেক মানুষের ধর্ম পালন করা বা না করার স্বাধীনতা রয়েছে। অন্যের মতামতকে সম্মান জানিয়ে সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই লালন সাঁইয়ের দর্শনের অন্যতম প্রধান শিক্ষা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। বক্তব্যে তিনি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সমতার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
লালনের সমতার শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। কাউকে আঘাত করা, ছোট করা কিংবা তার বিশ্বাসের কারণে অসম্মান করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের মত ও স্বাধীনতাকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, লালনের জীবন ও সাধনা এমন একটি মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে মানুষের প্রধান পরিচয় তার মনুষ্যত্ব। জন্মপরিচয়ের চেয়ে মানুষের মানবিকতা, বিবেক ও কর্মই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, লালনের দর্শন শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক জাগরণেরও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
স্মরণানুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন। আলোচনায় লালনের জীবনদর্শন, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব উঠে আসে।
আলোচনা পর্ব শেষে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা লালনসংগীত পরিবেশন করেন। লতিফ শাহ, নাসরিন সুলতানা বিউটি, আলেয়া বেগম, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, মৌসুমী ইকবাল, কাঙ্গালিনী সুফিয়া ও কানিজ খন্দকার মিতুসহ একাধিক শিল্পী সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সমবেতভাবে ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘আমার ঘর খানায় কে বিরাজ করে’ ও ‘মিলন হবে কত দিনে’ গান পরিবেশন করেন। সংগীত ও আলোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে লালনের মানবতাবাদী দর্শন, সাম্য এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা তুলে ধরা হয়।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন