শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে ত্বকের সমস্যা কমাতে শুধু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেই হবে না, বরং সঠিক উপাদান বেছে নেওয়াও জরুরি। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সিরামাইড, গ্লিসারিন, স্কোয়ালেন ও শিয়া বাটারের মতো উপাদান ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া নিয়াসিনামাইড ও প্যানথেনলও শুষ্ক ত্বকের যত্নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ময়েশ্চারাইজার কেনার আগে এর উপাদানগুলোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনীষা মারেড্ডি জানিয়েছেন, ত্বকের বাইরের স্তর পর্যাপ্ত পানি ও লিপিড ধরে রাখতে না পারলে শুষ্কতা দেখা দেয়। এর ফলে ত্বকে টানটান ভাব, রুক্ষতা, খোসা ওঠা ও চুলকানির মতো সমস্যা হতে পারে। কখনো ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীলও হয়ে পড়ে। তাই শুষ্ক ত্বকের যত্নে আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি ত্বকের সুরক্ষাবলয় অক্ষত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

শুষ্ক ত্বকের যত্নে উপকারী সাতটি উপাদান হলো

১. সিরামাইড: ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় শক্তিশালী রাখতে সিরামাইড গুরুত্বপূর্ণ। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিডের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে এবং আর্দ্রতা হারানো কমাতে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের জন্য সিরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ভালো বিকল্প হতে পারে।

২. হায়ালুরোনিক অ্যাসিড: ত্বকে পানি টেনে এনে আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সাহায্য করে। ফলে ত্বকের শুষ্কতা ও টানটান ভাব কমতে পারে। এই উপাদানযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের পর ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।

৩. গ্লিসারিন: শুষ্ক ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত উপাদান গ্লিসারিন। এটি ত্বকের বাইরের স্তরে আর্দ্রতা টেনে আনতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক নরম, মসৃণ ও কোমল থাকে। সাধারণত বেশির ভাগ ত্বক গ্লিসারিন ভালোভাবে সহ্য করতে পারে।

৪. স্কোয়ালেন: ত্বকের রুক্ষতা কমিয়ে নরম ও মসৃণ রাখতে স্কোয়ালেন সহায়ক। এটি ত্বক থেকে আর্দ্রতা হারানোর ঝুঁকিও কমাতে পারে। যাঁরা ভারী বা ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করেন, তাঁরা স্কোয়ালেনযুক্ত হালকা প্রসাধনী বেছে নিতে পারেন।

৫. শিয়া বাটার: অতিরিক্ত শুষ্ক ও খসখসে ত্বক নরম রাখতে শিয়া বাটার ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে এবং শুষ্কতার কারণে তৈরি হওয়া রুক্ষতা কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়, তাঁদের জন্য শিয়া বাটারযুক্ত ময়েশ্চারাইজার উপকারী হতে পারে।

৬. নিয়াসিনামাইড: ত্বকের সুরক্ষাবলয় ভালো রাখতে এবং আর্দ্রতা হারানো কমাতে নিয়াসিনামাইড সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের গঠন ও মসৃণতা উন্নত করতেও এই উপাদান ব্যবহার করা হয়। তবে সংবেদনশীল ত্বকে নতুন প্রসাধনী ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা ভালো।

৭. প্যানথেনল: শুষ্ক ও অস্বস্তিকর ত্বককে আর্দ্র রাখতে এবং প্রশমিত করতে প্যানথেনল সহায়ক। এটি ত্বকের সুরক্ষাবলয় বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুষ্ক ত্বকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার ও ত্বকের যত্নের পণ্যে এই উপাদান পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের যত্নে পেট্রোলাটাম, ইউরিয়া ও কলয়েডাল ওটমিলও কাজে আসতে পারে। পেট্রোলাটাম ত্বকের ওপর সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে পানি বেরিয়ে যাওয়া কমায়। ইউরিয়া আর্দ্রতা বাড়াতে ও রুক্ষতা কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, কলয়েডাল ওটমিল ত্বককে আর্দ্র রাখতে এবং অস্বস্তি প্রশমনে সহায়তা করতে পারে।

তবে সব ধরনের শুষ্ক ত্বকের জন্য একই ময়েশ্চারাইজার উপযুক্ত নয়। একজিমা, সোরিয়াসিস বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যার কারণেও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি, প্রদাহ, ত্বক ফেটে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত শুষ্কতার সমস্যা থাকলে নিজে নিজে প্রসাধনী পরিবর্তন না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।