চা খাওয়ার ভুল অভ্যাস অনেক সময় অজান্তেই ওজন কমানোর পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিনের শুরুতে এক কাপ গরম চা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক অভ্যাস। চা নিজে অস্বাস্থ্যকর কোনো পানীয় নয়। বরং চিনি ছাড়া চা তুলনামূলক কম ক্যালরির পানীয় হতে পারে। কিন্তু কখন চা খাচ্ছেন, তাতে কতটা চিনি বা দুধ দিচ্ছেন এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন এসব বিষয় ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চা খাওয়ার ভুল কিছু অভ্যাস বদলালে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ কমানো সম্ভব।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা খাওয়ার অভ্যাসটি অনেকের রয়েছে। তবে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কিছুটা বাড়ে। এ সময়ের সঙ্গে ক্যাফেইন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুম থেকে ওঠার একেবারে পর চা বা ক্যাফেইন গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে ক্লান্তি বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। ফলে দিনের বাকি সময়ে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মিষ্টি বা উচ্চ ক্যালরির খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই চা না খেয়ে কিছুটা সময় অপেক্ষা করা যেতে পারে।

চা খাওয়ার ভুলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার। অনেকেই দিনে একাধিক কাপ চা পান করেন এবং প্রতিবার কয়েক চা-চামচ চিনি যোগ করেন। এক কাপ চায়ে যোগ করা সামান্য চিনি হয়তো বড় বিষয় মনে হয় না, কিন্তু দিনে কয়েকবার এমন হলে মোট ক্যালরি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত চিনি রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়াতেও পারে, যার পর ক্ষুধা ও মিষ্টি খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে। ওজন কমাতে চাইলে ধীরে ধীরে চায়ের চিনির পরিমাণ কমানো তাই একটি সহজ পরিবর্তন হতে পারে।

তবে শুধু চায়ের দিকেই নজর দিলেই হবে না। চায়ের সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিস্কুট, রস্ক, চানাচুর, ভুজিয়া, নামকিন, ভাজাপোড়া কিংবা বিভিন্ন বেকারি খাবার অনেকের চায়ের নিয়মিত সঙ্গী। এসব খাবারের কিছুতে পরিশোধিত ময়দা, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বি থাকতে পারে। ফলে চায়ের এক কাপকে কম ক্যালরির পানীয় রাখলেও সঙ্গে উচ্চ ক্যালরির স্ন্যাকস খেলে দিনের মোট ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। বারবার এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাস ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকেও কঠিন করে তুলতে পারে।

সঠিকভাবে পান করলে চা অবশ্য ওজন কমানোর পথে বাধা হবেই এমন নয়। চায়ে থাকা ক্যাফেইন সতর্কতা ও সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষুধা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে চিনি ছাড়া চা কোমল পানীয়, মিষ্টি কফি বা প্যাকেটজাত জুসের তুলনায় কম ক্যালরির বিকল্প হতে পারে। দুধ-চিনি দিয়ে তৈরি চায়ের বদলে কম চিনি বা চিনি ছাড়া চা বেছে নেওয়া এবং দুধের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা মোট ক্যালরি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং চা খাওয়ার ভুল অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে পরিবর্তন করাই বেশি বাস্তবসম্মত। ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা সময় অপেক্ষা করে চা পান করা, চিনির পরিমাণ কমানো, প্রয়োজন অনুযায়ী কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করা এবং চায়ের সঙ্গে বিস্কুট বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা যেতে পারে। তবে শুধু চায়ের সময় পরিবর্তন করলেই ওজন কমবে না। মোট ক্যালরি গ্রহণ, খাবারের মান, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম এবং দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপন সবকিছুর সমন্বয়েই স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।