তানজিন তিশাকে ঘিরে করা মামলার শুনানিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন এই অভিনেত্রী। শুনানি শেষে আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তানজিন তিশা। তিনি জানান, আইনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বারবার আদালতে আসতেও তিনি প্রস্তুত।

মামলাটি একটি শাড়িকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্রপাত ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নিয়ে। তানজিন তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিচিত একজন বড় বোনের মাধ্যমে শাড়িটি তিনি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। শাড়িটি নেওয়ার পর ছবি দেওয়ার কথা থাকলেও তখন সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি ও ব্যস্ততার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সময় চেয়েছিলেন এবং ছবি দেওয়ার ইচ্ছাও তাঁর ছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়।

আদালতে নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তানজিন তিশা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকারা প্রায়ই ভক্ত ও সহকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপহার পান। সেগুলোর ছবি বা পোস্ট অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তাঁর ক্ষেত্রেও বিষয়টি সেই ধরনের একটি উপহারের মধ্যেই ছিল বলে জানান তিনি। শাড়িটির ছবি দেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়েছিল এবং তিনি পরে ছবি দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা আর করা হয়নি।

অভিনেত্রী আরও জানান, শাড়িটির সঙ্গে ছবি তোলার প্রস্তুতিও তিনি নিয়েছিলেন। এমনকি এ জন্য ব্লাউজও তৈরি করে রেখেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তানজিন তিশার দাবি, অভিযোগ করার আগে তাঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলা হলে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে সমাধানের সুযোগ থাকত। তবে এখন তিনি ঘটনার পেছনে কারা বা কী উদ্দেশ্যে রয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।

আদালতের শুনানি শেষে তানজিন তিশা বলেন, তিনি বিষয়টির আইনগত সমাধান চান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে আরও কয়েকবার আদালতে আসতে হলেও তিনি আসবেন। তিনি আইনের প্রতি নিজের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, আদালত থেকেই ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। পাশাপাশি কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকে, সেটিকেও সমর্থন করবেন না বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে পুরো বিষয়টি আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশাই উঠে এসেছে।

মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। তানজিন তিশার আইনজীবীও তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় অভিনেত্রীর বক্তব্যের একটি অংশ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে প্রয়োজন হলে তিনি আবারও আদালতে আসবেন এবং ন্যায়বিচার নিয়েই বের হওয়ার প্রত্যাশা রাখেন। এদিকে শাড়িকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই মামলার বিষয়টি বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।