তীব্র গরমে শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি। অনেকেই মনে করেন রোদে না বের হলে হিট স্ট্রোকের ভয় নেই—কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ ও আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলেও হিট স্ট্রোক হতে পারে।

ভারতের জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রুদ্রজিৎ পাল জানিয়েছেন, বাতাস চলাচল না থাকা ঘর, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় অবস্থান—এসব কারণে বাসার ভেতরেও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি রাতে বা বিশ্রামরত অবস্থাতেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হিট স্ট্রোক কীভাবে হয়

হিট স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। কিন্তু তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গেলে শরীর আর স্বাভাবিকভাবে তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এতে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

লক্ষণগুলো কী কী

হিট স্ট্রোক হলে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন—

  • মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা
  • দুর্বলতা বা অবসন্নতা
  • বুকে অস্বস্তি
  • বমি ভাব
  • হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া
  • রক্তচাপ কমে যাওয়া

হিট স্ট্রোক হলে করণীয়

  • দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভিজিয়ে দিন
  • ঢিলেঢালা পোশাক পরিয়ে দিন
  • দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান

ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন

 বাইরে গেলে

  • দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন
  • ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করুন
  • পানি বা ওআরএস সঙ্গে রাখুন

 ঘরের ভেতরে

  • ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন
  • অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্র পরিবেশ এড়িয়ে চলুন
  • নিয়মিত পানি পান করুন

এসি ব্যবহারকারীদের জন্য

  • এসি থেকে বের হয়ে সরাসরি রোদে যাবেন না
  • শরীরকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দিন

শেষ কথা

হিট স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা অবহেলা করলে প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই সচেতনতা এবং কিছু সহজ অভ্যাসই পারে এই ঝুঁকি অনেকটা কমাতে।