স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর আচরণ ও চিন্তাভাবনায় হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ এমন মানুষ, প্রাণী বা দৃশ্য দেখতে পারেন, যা আশপাশের অন্য কেউ দেখতে পাচ্ছেন না। আবার কোনো রোগী মনে করতে পারেন, তার সঙ্গে কেউ কথা বলছে বা পাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হলেও স্ট্রোকের পর এমন অভিজ্ঞতা হওয়ার চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাখ্যা রয়েছে।
এর একটি কারণ হতে পারে হ্যালুসিনেশন। মস্তিষ্কের যে অংশ দৃষ্টি, চিন্তা ও চারপাশের তথ্য বিশ্লেষণ করে, স্ট্রোকের কারণে সেখানে সমস্যা হলে চোখে দেখা তথ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত নাও হতে পারে। কখনো দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা চোখের সামনে দৃশ্যের একটি অংশ না দেখার পরও মস্তিষ্ক সেই ‘ফাঁকা’ অংশ পূরণ করতে গিয়ে মানুষ বা বিভিন্ন দৃশ্য তৈরি করতে পারে।
স্ট্রোকের পর শুধু দৃষ্টির সমস্যাই নয়, চিন্তা ও স্মৃতির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে রোগী কোথায় আছেন, সময় কত বা আশপাশে কী ঘটছে—এসব বুঝতে সাময়িকভাবে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে স্ট্রোকের শুরুর সময় cognitive impairment বেশি দেখা যেতে পারে এবং এর সঙ্গে delirium বা তীব্র বিভ্রান্তিও যুক্ত হতে পারে।
এ সময় রোগী সত্যিই সামনে কাউকে দেখছেন বলে মনে করতে পারেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতেও পারেন। আবার কেউ স্পর্শ, শব্দ বা অন্য কোনো অনুভূতিও বাস্তব বলে মনে করতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে রোগী ইচ্ছা করে গল্প করছেন বা মানসিকভাবে ‘পাগল’ হয়ে গেছেন; হ্যালুসিনেশনের পেছনে মস্তিষ্কের বিভিন্ন পরিবর্তন কাজ করতে পারে।
স্ট্রোকের পর সংক্রমণ, জ্বর, ঘুমের সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং delirium-এর মতো বিষয়ও রোগীর বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক দেখার অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তাই শুধু ‘স্ট্রোকের কারণে হচ্ছে’ ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের মাধ্যমে কারণটি খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারের সদস্যদের এমন পরিস্থিতিতে রোগীর সঙ্গে তর্ক না করে শান্তভাবে কথা বলা উচিত। তিনি যা দেখছেন তা অন্যরা দেখতে না পেলেও তাকে ভয় দেখানো বা উপহাস করা ঠিক নয়। ঘর পর্যাপ্ত আলোয় রাখা, পরিচিত মানুষ পাশে থাকা এবং রোগীর চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো উপকারী হতে পারে।
তবে স্ট্রোকের পর হঠাৎ নতুন করে বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা হ্যালুসিনেশন শুরু হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হওয়া, দৃষ্টির নতুন সমস্যা কিংবা তীব্র মাথাব্যথার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। এগুলো নতুন বা পুনরায় স্ট্রোকের লক্ষণও হতে পারে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন