সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও প্রাক্তনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল বারবার দেখার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তিনি কেমন আছেন, নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না কিংবা বিচ্ছেদের পর জীবন কীভাবে কাটাচ্ছেন, তা জানার কৌতূহল থেকেই এমনটা হতে পারে। তবে এই অভ্যাস ধীরে ধীরে নিজের মানসিক শান্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও আবেগের বন্ধন একদিনে শেষ হয় না। বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রোফাইলে ঢুকে পড়েন। ফলে পুরোনো স্মৃতি ও আবেগ আবারও সামনে চলে আসে।
প্রাক্তনের পোস্ট বা স্টোরি বারবার চোখে পড়লে কৌতূহল আরও বাড়তে পারে। তাই এই অভ্যাস কমানোর জন্য শুরুতেই তাকে মিউট বা আনফলো করে রাখা যেতে পারে। এতে তার নতুন পোস্ট বা আপডেট সামনে আসবে না। প্রয়োজনে কয়েক দিনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকেও বিরতি নেওয়া যেতে পারে।
তবে প্রাক্তনকে ব্লক করতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে নিজের মানসিক স্বস্তির ওপর। যদি তার পোস্ট দেখা বারবার মন খারাপের কারণ হয়, তাহলে সাময়িকভাবে দূরত্ব তৈরি করা যেতে পারে। এতে নিজের আবেগ সামলানোর জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যায়।
প্রাক্তনের প্রোফাইলে ঢোকার ইচ্ছা হলে সঙ্গে সঙ্গে তা না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যেতে পারে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আসলে কী জানতে চাইছেন? তিনি আপনাকে মিস করছেন কি না, নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না কিংবা আপনার কথা মনে করছেন কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কি প্রোফাইলে যাচ্ছেন?
অনেক সময় কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য নয়, শুধু অভ্যাস বা কৌতূহল থেকেই প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখা হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। বরং কোনো ছবি বা পোস্ট দেখে নিজের মতো করে নানা কিছু ভাবতে শুরু করলে মানসিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
হঠাৎ প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখার তাগিদ তৈরি হলে নিজেকে অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত রাখাও কাজে দিতে পারে। গান শোনা, হাঁটতে যাওয়া, বই পড়া, সিনেমা দেখা কিংবা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার মতো কাজে মনোযোগ দেওয়া যায়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্যদিকে মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে অনেক সময় প্রোফাইল দেখার তাৎক্ষণিক ইচ্ছা কমে যায়।
এ ছাড়া প্রাক্তনের বর্তমান জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করাও এড়িয়ে চলা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ সাধারণত জীবনের আনন্দের মুহূর্তগুলোই বেশি প্রকাশ করেন। তাই প্রাক্তনকে হাসিখুশি ছবি দিতে দেখে তিনি বিচ্ছেদ খুব সহজে কাটিয়ে উঠেছেন, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই।
নিজেকে সাত দিনের একটি ছোট চ্যালেঞ্জও দেওয়া যেতে পারে। টানা সাত দিন প্রাক্তনের কোনো পোস্ট, স্টোরি বা প্রোফাইল না দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। প্রথমদিকে বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। তবে ইচ্ছা তৈরি হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অন্য কাজে মনোযোগ দিলে ধীরে ধীরে অভ্যাসটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রাক্তনকে নিয়ে কৌতূহল থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তার জীবনের প্রতিটি আপডেট জানার চেষ্টা যদি নিজের মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা প্রয়োজন। নিজের মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন