শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্টুডিওতে ভাঙচুর করেছে। তবে এই চাঁদাবাজির অভিযোগটি পাটওয়ারীর বক্তব্যের অংশ হিসেবেই এসেছে।
পাটওয়ারী তার বক্তব্যে সালমান মুক্তাদিরের আগের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের কঠিন সময়ে অনেকে নীরব থাকলেও সালমান প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও তিনি বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন পাটওয়ারী।
তার ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি কোনো নাগরিককে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি বলেন, মানুষ জুলাইয়ে একটি জালিমের হাত থেকে বের হয়ে আরেক জালিমের হাতে পড়ার জন্য আন্দোলনে দাঁড়ায়নি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাটওয়ারী দেশের মানুষকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও জুলুম থেকে রক্ষা করার জন্য প্রার্থনা করেন। তার বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
তবে স্টুডিওতে হামলার কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসিবি চত্বরের ওই এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ক্যান্টনমেন্ট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিউগিনি প্রপার্টিজ ও এক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র রয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে। ওই ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হামলার পর সালমান মুক্তাদির নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি তার স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন এবং হামলার জন্য চাঁদাবাজদের দায়ী করার অভিযোগ করেন। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে তার বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। এর আগে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে, আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিও ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে দুটি বিষয় সামনে এসেছে। একদিকে সালমান ও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার কথা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে মূলত হামলার নিন্দা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সালমান মুক্তাদিরের জুলাইয়ের সময়কার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেছেন। এখন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় হামলার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কী তথ্য সামনে আসে, সেটিই এ ঘটনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন