সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন স্বাস্থ্য আলোচনায় এখন প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক বেশ পরিচিত শব্দ। অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা গাট হেলথ নিয়ে আলোচনা হলেই সাধারণত প্রোবায়োটিকের কথাই বেশি শোনা যায়। তবে TrainedByYVS-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রান্সফরমেশন কোচ যশ বর্ধন স্বামীর মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় প্রিবায়োটিকের বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া দরকার। কারণ দুটিই গাট মাইক্রোবায়োমের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তাদের কাজ এক নয়।

সহজভাবে বললে, প্রোবায়োটিক হলো জীবন্ত অণুজীব, যেগুলো শরীরে অতিরিক্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া হিসেবে যোগ হতে পারে। অন্যদিকে প্রিবায়োটিক হলো এমন উপাদান, যা অন্ত্রে আগে থেকেই থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও কার্যক্রমকে সহায়তা করে। যশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রিবায়োটিক শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগানোর মাধ্যমে কাজ করে, আর প্রোবায়োটিকের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে।

প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট জনপ্রিয় হলেও এটি সবার জন্য একইভাবে কার্যকর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিভেদে এর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টে থাকা জীবন্ত ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় তাপমাত্রার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই শুধু প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে।

অন্যদিকে প্রিবায়োটিক স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ও সবজিতে পাওয়া যায়। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সবসময় জটিল সাপ্লিমেন্ট রুটিনের প্রয়োজন হয় না। দৈনন্দিন খাবারে বিভিন্ন ধরনের সবজি, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ও বৈচিত্র্যময় উদ্ভিজ্জ খাবার যুক্ত করা একটি সহজ পদ্ধতি হতে পারে। তবে হঠাৎ করে খাবারে অনেক বেশি ফাইবার যোগ না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবার বা উপাদানের ওপর নির্ভর করে না। যশের পরামর্শ অনুযায়ী, অ্যালকোহল সীমিত করা বা এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার গ্রহণ, খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে খাবার না খাওয়ার মতো অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিবার খাবারের পর প্রায় ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

তাহলে কি প্রোবায়োটিক পুরোপুরি বাদ দিতে হবে? এমনটা নয়। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রোবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে এবং এর কার্যকারিতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে প্রিবায়োটিকসমৃদ্ধ ফাইবারযুক্ত খাবার, বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন অভ্যাসকে ভিত্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে। ব্যক্তিগত খাদ্যচাহিদা বা হজমের সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।